ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ: নিজেই সাইট ঠিকঠাক রাখার সহজ গাইড

লিখেছেন সন্দীপন দাস · ১২ মিনিটে পড়ুন · আপডেট:

ওয়েবসাইট মেইনটেন্যান্স গাইড — ল্যাপটপে সাইটের আপডেট আর ব্যাকআপ চেক করার ছবি

ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের সোজা মানে হল সাইটটাকে নিয়মিত দেখভাল করা — যাতে সাইট সব সময় খোলে, তাড়াতাড়ি খোলে, হ্যাক না হয়, আর তাতে লেখা ইনফো সব সময় ঠিক থাকে। চলতি কথায় একে মেইনটেন্যান্স বলে, আর Google-এ লোকে লেখেন website maintenance। ভালো খবর হল, এর বেশিরভাগটাই আপনি নিজে মাসে অল্প সময় দিয়েই করতে পারেন — কোনো টেকনিক্যাল লোক ছাড়া।

এই গাইডে বলছি কী কী দেখতে হয়, কতদিন পর পর, কোনটা নিজে করবেন আর কোনটায় ডেভেলপার ডাকবেন। শেষে একটা প্রিন্ট করে রাখার মতো চেকলিস্টও আছে।

সাইট বানানোর পরেই আসল কাজ শুরু

ভাবুন তো, নতুন দোকান খুললেন। শাটার, লাইট, সাইনবোর্ড সব ঝকঝকে। কিন্তু এক বছর কেউ ঝাড়পোঁছ করল না, বাল্ব কেটে গেল, বোর্ডে পুরনো ফোন নম্বর রয়ে গেল। কাস্টমার কী ভাববেন?

ওয়েবসাইটও ঠিক এরকম। অনেকে ভাবেন, সাইট একবার বানিয়ে দিলেই কাজ শেষ। আসলে সাইট চলে কতগুলো জিনিসের উপর — ডোমেইন, হোস্টিং, সফটওয়্যার (যেমন WordPress), প্লাগইন, আর আপনার লেখা ইনফো। এর প্রত্যেকটার এক্সপায়ারি, আপডেট আর রিস্ক আছে।

একটা জিনিস মনে রাখবেন — সাইট খারাপ হলে কাস্টমার আপনাকে ফোন করে জানান না। উনি চুপচাপ পাশের দোকানের সাইটে চলে যান।

ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের কাজ না করলে কী কী হয়

খুব কমন কয়েকটা প্রবলেম, যেগুলো দেখভালের অভাবেই হয়:

প্রবলেমকেন হয়কাস্টমার কী দেখেন
সাইট একদম খোলে নাডোমেইন বা হোস্টিং রিনিউ হয়নি"This site can't be reached" বা অন্য কারও অ্যাডের পেজ
"Not secure" লেখা আসেSSL সার্টিফিকেট রিনিউ হয়নিব্রাউজার সতর্ক করে, অনেকে সাইট ছেড়ে চলে যান
হঠাৎ অদ্ভুত লিংক বা অ্যাডপুরনো প্লাগইনের ফাঁক দিয়ে হ্যাকআপনার নামে অন্য জিনিসের প্রচার
সাইট খুলতে অনেক সময় লাগেভারী ছবি, বাড়তি প্লাগইন, পুরনো সফটওয়্যারঅপেক্ষা না করে ফিরে যান
ফর্ম থেকে মেসেজ আসে নাইমেল সেটিং ভেঙে গেছে, কেউ টেস্ট করেনিভাবেন আপনি উত্তরই দেন না
পুরনো ইনফোকেউ আপডেট করেনিভুল সময়ে এসে দোকান বন্ধ দেখেন

খেয়াল করুন, এর একটারও জন্য বিরাট টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে না। লাগে শুধু নিয়ম করে দেখা।

কাজগুলো চার ভাগে ভাগ করে নিন

সব কাজ রোজ করতে হয় না। সময় অনুযায়ী ভাগ করলে মাথায় রাখা সহজ হয়।

সপ্তাহে একবার (৫–১০ মিনিট)

  • নিজের ফোনে, মোবাইল ডেটায় সাইটটা খুলুন। হোম পেজ ঠিকঠাক আসছে কিনা দেখুন।
  • WhatsApp বাটনে একবার টিপে দেখুন — ঠিক নম্বরে চ্যাট খুলছে কিনা।
  • ফোন নম্বরে টিপলে কল যাচ্ছে কিনা।
  • ফর্ম থাকলে নিজেই একটা টেস্ট মেসেজ পাঠান। ইমেল বা WhatsApp-এ এল কিনা দেখুন।

মাসে একবার (৩০–৬০ মিনিট)

  • WordPress, থিম আর প্লাগইনের আপডেট (আগে ব্যাকআপ নিয়ে)।
  • ব্যাকআপ হচ্ছে কিনা, আর সেটা আলাদা জায়গায় জমা হচ্ছে কিনা।
  • Google Search Console খুলে দেখুন কোনো এরর বা সতর্কবার্তা এসেছে কিনা।
  • খোলার সময়, ছুটির দিন, অফার, নতুন সার্ভিস — লেখাগুলো ঠিক আছে কিনা।
  • কাজে লাগে না এমন প্লাগইন বা পুরনো ইউজার থাকলে সরিয়ে দিন।

তিন মাসে একবার

  • PageSpeed Insights দিয়ে মোবাইলে সাইটের স্পিড চেক।
  • সব পেজ একবার ঘুরে দেখুন — ভাঙা লিংক, পুরনো ছবি, "শীঘ্রই আসছে" লেখা পেজ।
  • পাসওয়ার্ডগুলো এখনও শক্ত আর শুধু দরকারি লোকের কাছে আছে কিনা।
  • একটা ব্যাকআপ থেকে সাইট ফিরিয়ে আনা যায় কিনা, ডেভেলপারকে দিয়ে একবার টেস্ট করিয়ে নিন।

বছরে একবার

  • ডোমেইন আর হোস্টিং-এর এক্সপায়ারি কবে, দেখে নিন। অটো-রিনিউ চালু আছে কিনা।
  • পুরো সাইটের লেখা একবার পড়ুন — আপনার ব্যবসা গত এক বছরে যা চেঞ্জ হয়েছে, সাইটে সেটা আছে তো?
  • নতুন ছবি তুলে পুরনোগুলো চেঞ্জ করে দিন।
  • PHP ভার্সন আর হোস্টিং প্ল্যান এখনও সাইটের জন্য ঠিক আছে কিনা, ডেভেলপারের সঙ্গে কথা বলে নিন। সার্ভার বারবার স্লো হলে বা বন্ধ থাকলে ভরসার ক্লাউড হোস্টিংয়ে সরানোর কথা ভাবুন — যেমন dronahost.com, ওরা সাইট ফ্রি-তে সরিয়ে দেয়।

আপডেট: সবচেয়ে জরুরি, সবচেয়ে বেশি অবহেলিত

বেশিরভাগ ব্যবসার সাইট WordPress-এ চলে। WordPress নিজে, থিম আর প্রতিটা প্লাগইন — এগুলো যাঁরা বানান, তাঁরা মাঝে মাঝে নতুন ভার্সন ছাড়েন। তাতে নতুন ফিচার থাকে, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা — সিকিউরিটির ফাঁক বন্ধ করা হয়।

পুরনো ভার্সনের ফাঁক একবার জানাজানি হয়ে গেলে, হ্যাকাররা অটোমেটিক টুল দিয়ে হাজার হাজার সাইট খুঁজে বেড়ায়। আপনার সাইট ছোট কি বড়, তাতে ওদের কিছু যায় আসে না।

আপডেট করার সেফ নিয়ম

  1. আগে ব্যাকআপ — কোনো আপডেটের আগে পুরো সাইটের ব্যাকআপ নিন।
  2. একটা একটা করে — সব প্লাগইন একসঙ্গে আপডেট না করে কয়েকটা করে করুন। কিছু ভাঙলে বোঝা যাবে কোনটার জন্য।
  3. আপডেটের পরে চেক — হোম পেজ, যোগাযোগের পেজ, ফর্ম আর WhatsApp বাটন খুলে দেখুন।
  4. বড় আপডেটে সাবধান — WordPress-এর বড় ভার্সন বা পেজ বিল্ডারের বড় আপডেট এলে কয়েকদিন অপেক্ষা করা অনেক সময় ভালো। ডেভেলপার থাকলে ওঁকে দিয়েই করান।

WordPress নিজেও আপডেটের নিয়ম নিয়ে ডকুমেন্টেশন রেখেছে — ইংরেজিতে, তবে স্টেপগুলো পরিষ্কার।

যে প্লাগইন কাজে লাগে না, সেটা রাখবেন না

বন্ধ (deactivate) করে রাখা প্লাগইনও সার্ভারে থেকে যায়। দরকার না থাকলে পুরোপুরি ডিলিট করুন। যত কম প্লাগইন, তত কম ঝামেলা — আপডেটও কম, রিস্কও কম, সাইটও হালকা।

ব্যাকআপ: খারাপ দিনের বিমা

ব্যাকআপ মানে পুরো সাইটের একটা কপি — ফাইল আর ডেটাবেস দুটোই। সাইট হ্যাক হলে, ভুল আপডেটে ভেঙে গেলে বা ভুল করে কিছু মুছে ফেললে, ব্যাকআপ থেকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।

ব্যাকআপ নিয়ে তিনটে কথা মনে রাখুন:

  • নিয়মিত হোক — যত ঘন ঘন সাইট চেঞ্জ হয়, তত ঘন ঘন ব্যাকআপ। যে সাইটে রোজ অর্ডার আসে, তার ব্যাকআপ রোজ লাগে। যেটা মাসে একবার চেঞ্জ হয়, তার সাপ্তাহিক হলেই চলে।
  • আলাদা জায়গায় থাক — শুধু হোস্টিং-এর ভেতরে রাখলে, হোস্টিং-এ প্রবলেম হলে ব্যাকআপও যাবে। একটা কপি ক্লাউডে বা অন্য কোথাও রাখুন।
  • ফিরিয়ে আনা যায় কিনা টেস্ট করুন — অনেক সময় ব্যাকআপ হচ্ছে বলে মনে হয়, কিন্তু দরকারের দিন দেখা যায় ফাইলটা অর্ধেক বা খোলে না।

আপনার হোস্টিং কোম্পানি ব্যাকআপ দেয় কিনা, কতদিনের ব্যাকআপ রাখে, আর আপনি নিজে সেটা ডাউনলোড করতে পারেন কিনা — একবার জিজ্ঞেস করে নিন।

স্পিড: সাইট যেন তাড়াতাড়ি খোলে

আপনার কাস্টমারদের বেশিরভাগ সাইট দেখেন মোবাইলে, অনেক সময় কম নেটে। সাইট খুলতে দেরি হলে উনি অপেক্ষা করবেন না।

সময়ের সঙ্গে সাইট ধীর হয়ে যায় কেন? নতুন নতুন বড় ছবি জুড়তে থাকে, প্লাগইন বাড়ে, পুরনো সফটওয়্যার আপডেট হয় না। তাই মাঝে মাঝে চেক করা দরকার।

নিজে চেক করবেন কিভাবে

Google-এর ফ্রি টুল PageSpeed Insights-এ সাইটের লিংক দিন। মোবাইলের রিপোর্টটা দেখুন। সব নম্বর বোঝার দরকার নেই — লাল দাগ বেশি থাকলে বুঝবেন কাজ করা দরকার।

নিজে যা করতে পারেন

  • ছবি আপলোড করার আগে ছোট করে নিন। মোবাইলে তোলা ছবি সরাসরি দিলে সেটা অনেক ভারী হয়।
  • একই পেজে অনেক স্লাইডার, ভিডিও আর অ্যানিমেশন রাখবেন না।
  • দরকার নেই এমন প্লাগইন সরিয়ে দিন।

ক্যাশিং, সার্ভার সেটিং বা কোড ঠিক করার কাজগুলো ডেভেলপারের হাতে ছাড়ুন।

সিকিউরিটি: সাইট সেফ রাখার সহজ অভ্যাস

হ্যাক হওয়া সাইট ঠিক করা ঝামেলার, সময়ও লাগে অনেক। তার চেয়ে আগে থেকে সাবধান থাকা অনেক সহজ।

  • শক্ত পাসওয়ার্ড — নাম, জন্মদিন বা দোকানের নাম দিয়ে পাসওয়ার্ড নয়। প্রতিটা জায়গায় আলাদা পাসওয়ার্ড।
  • টু-ফ্যাক্টর লগইন — সাইটের অ্যাডমিন, হোস্টিং আর ডোমেইন অ্যাকাউন্টে চালু করুন। পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও আপনার ফোন ছাড়া ঢুকতে পারবে না।
  • কম লোকের হাতে অ্যাডমিন — স্টাফ বা পুরনো ডেভেলপার চলে গেলে তাঁদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিন বা পাসওয়ার্ড বদলান।
  • শুধু ভরসা করা যায় এমন প্লাগইন-থিম — "ফ্রিতে প্রিমিয়াম থিম" জাতীয় ডাউনলোডে প্রায়ই লুকোনো ক্ষতিকর কোড থাকে।
  • SSL চালু থাকুক — সাইটের ঠিকানার আগে https আর তালার চিহ্ন থাকা মানে কানেকশন এনক্রিপ্ট করা। বেশিরভাগ হোস্টিং এখন এটা নিজে থেকে রিনিউ করে, তবু মাঝে মাঝে দেখে নিন।

সাইট হ্যাক হয়েছে কিনা, বুঝবেন কিভাবে

এই লক্ষণগুলো দেখলে সাবধান হন:

  1. Google সার্চে আপনার সাইটের নামের নিচে অদ্ভুত লেখা বা অন্য ভাষার শব্দ।
  2. সাইট খুললে অন্য কোনো সাইটে চলে যাচ্ছে।
  3. অ্যাডমিনে এমন ইউজার, যাকে আপনি চেনেন না।
  4. Search Console বা হোস্টিং থেকে সিকিউরিটি নিয়ে ইমেল।
  5. ব্রাউজার লাল পেজ দেখিয়ে বলছে সাইটটা বিপজ্জনক।

এরকম কিছু দেখলে ঘাবড়াবেন না, কিন্তু দেরিও করবেন না। আগে সব পাসওয়ার্ড বদলান, হোস্টিং কোম্পানিকে জানান, আর একজন ডেভেলপারকে দিয়ে সাইট সাফ করান। শুধু ব্যাকআপ চাপিয়ে দিলেই সব সময় হয় না — ফাঁকটা বন্ধ না করলে আবার হ্যাক হতে পারে।

ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: আমার মতে মেইনটেন্যান্সের সবচেয়ে বড় শত্রু হল "পরে দেখব"। আপডেট জমতে জমতে যখন বিশটা প্লাগইন একসঙ্গে পুরনো হয়ে যায়, তখন একসঙ্গে আপডেট করলে সাইট ভাঙার চান্স অনেক বেড়ে যায়। মাসে একবার অল্প অল্প করে করা অনেক সেফ, আর অনেক কম ঝামেলার।

ডোমেইন আর হোস্টিং: রিনিউয়ের হিসেব রাখুন

সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটা খুব কমন কারণ — ডোমেইন এক্সপায়ার করে গেছে, অথচ রিনিউয়ের ইমেল গিয়েছিল এমন এক ঠিকানায়, যেটা কেউ আর খোলে না।

  • ডোমেইন আর হোস্টিং অ্যাকাউন্টে নিজের চালু ইমেল আর ফোন নম্বর দিন।
  • অটো-রিনিউ চালু রাখুন, আর পেমেন্টের কার্ডের এক্সপায়ারি বা UPI অটোপে ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।
  • ফোনের ক্যালেন্ডারে এক্সপায়ারির এক মাস আগে একটা রিমাইন্ডার রাখুন।
  • ডোমেইন যেন আপনার নিজের নামে থাকে, ডেভেলপার বা এজেন্সির নামে নয়।

ডোমেইন এক্সপায়ার হয়ে গেলে কিছুদিন ফিরিয়ে নেওয়ার চান্স থাকে, কিন্তু অনেক দেরি হলে নামটা অন্য কেউ কিনে নিতে পারেন। তখন পুরনো ভিজিটিং কার্ড, বোর্ড, Google প্রোফাইল — সব জায়গার লিংক অন্যের হাতে।

লেখা আর ইনফোর দেখভাল

সফটওয়্যার ঠিক থাকলেও ভুল ইনফো কাস্টমারকে ফেরত পাঠায়। এগুলো নিয়ম করে মিলিয়ে নিন:

  • খোলার সময় আর ছুটির দিন — পুজো, ঈদ, বড়দিনের সময় টাইমিং চেঞ্জ হলে সাইটেও লিখুন।
  • ফোন আর WhatsApp নম্বর — নম্বর চেঞ্জ হলে সাইট, Google Business Profile আর ফেসবুক — সব জায়গায় একসঙ্গে আপডেট করুন।
  • সার্ভিস বা জিনিসের লিস্ট — যা আর করেন না, সরিয়ে দিন। নতুন যা যোগ হয়েছে, লিখুন।
  • ছবি — দোকান নতুন করে সাজালে বা নতুন কাজ করলে নতুন ছবি দিন।
  • স্টাফ বা ডাক্তারের নাম — যিনি আর নেই, তাঁর নাম সরিয়ে দিন।

ধরুন, হাওড়ার একজন এসি মেকানিক গরমের আগে নতুন ইনভার্টার এসির সার্ভিস শুরু করলেন। সাইটে না লিখলে, যিনি "হাওড়া ইনভার্টার এসি সার্ভিস" লিখে খুঁজছেন, তিনি ওঁকে খুঁজেই পাবেন না। সাইটের লেখা আপডেট রাখা আসলে লোকাল এসইও-র একটা বড় অংশ।

Google Search Console: সাইটের রিপোর্ট কার্ড

Search Console হল Google-এর একটা ফ্রি টুল। এতে দেখা যায়:

  • Google আপনার কোন কোন পেজ দেখতে পাচ্ছে, কোনগুলো পাচ্ছে না।
  • লোকে কোন সার্চে আপনার সাইট দেখছেন আর ক্লিক করছেন।
  • মোবাইলে প্রবলেম, সিকিউরিটি প্রবলেম বা অন্য কোনো এরর।

মাসে একবার খুলে শুধু এটুকু দেখুন — নতুন কোনো সতর্কবার্তা এসেছে কিনা, আর ক্লিক হঠাৎ অনেক কমে গেছে কিনা। হঠাৎ কমলে কারণ খুঁজুন: সাইট বন্ধ ছিল, কোনো পেজ মুছে গেছে, নাকি অন্য কিছু।

সাইট হঠাৎ না খুললে: আগে এই কয়েকটা জিনিস দেখুন

সকালে কেউ ফোন করে বললেন, "আপনার সাইট তো খুলছে না।" প্যানিক করার আগে ধাপে ধাপে দেখুন:

  1. অন্য নেটে খুলে দেখুন — Wi-Fi বন্ধ করে মোবাইল ডেটায়, বা অন্য কারও ফোনে। অনেক সময় প্রবলেমটা শুধু একটা নেট কানেকশনে।
  2. কী লেখা আসছে, খেয়াল করুন — "site can't be reached" হলে প্রায়ই ডোমেইন বা DNS-এর প্রবলেম। ডোমেইন কোম্পানির পেজ দেখালে এক্সপায়ার হয়ে গেছে কিনা দেখুন। "500" বা "Error establishing a database connection" জাতীয় লেখা হলে প্রবলেম সাধারণত হোস্টিং বা সাইটের ভেতরে।
  3. কাল রাতে কিছু চেঞ্জ হয়েছিল কি? — কোনো প্লাগইন আপডেট, নতুন প্লাগইন বা থিম চেঞ্জ হয়ে থাকলে, ডেভেলপারকে সেটা প্রথমেই জানান। এতে প্রবলেম খুঁজতে অনেক কম সময় লাগে।
  4. হোস্টিং-এর সাপোর্টে জানান — সার্ভার বন্ধ থাকলে ওরাই আগে জানতে পারে।

যতক্ষণ সাইট ঠিক না হচ্ছে, Google Business Profile, ফেসবুক আর WhatsApp স্ট্যাটাসে ফোন নম্বরটা সামনে রাখুন, যাতে কাস্টমার অন্তত যোগাযোগ করতে পারেন।

কোনটা নিজে করবেন, কোনটায় ডেভেলপার ডাকবেন

কাজনিজে করবেনডেভেলপারের কাজ
লেখা, ছবি, খোলার সময় চেঞ্জ করাহ্যাঁ—
সাইট খুলছে কিনা, ফর্ম চলছে কিনা দেখাহ্যাঁ—
ডোমেইন-হোস্টিং-এর এক্সপায়ারি খেয়াল রাখাহ্যাঁ—
ছোট প্লাগইন আপডেটব্যাকআপ নিয়ে, সাবধানেভরসা না পেলে
WordPress বা পেজ বিল্ডারের বড় আপডেট—হ্যাঁ
স্পিড ঠিক করা, ক্যাশিংছবি ছোট করা পর্যন্তবাকিটা
হ্যাক হওয়া সাইট সাফ করাপাসওয়ার্ড চেঞ্জ করাহ্যাঁ
সার্ভার, PHP, ইমেল সেটিং—হ্যাঁ

সাইট নিজের হাতে লেখা-ছবি চেঞ্জ করার মতো করে বানানো থাকলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়। সাইট বানানোর সময়েই এটা চেয়ে নিন।

মেইনটেন্যান্স অন্যকে দিলে কী কী জিজ্ঞেস করবেন

অনেকে নিজে সময় পান না, তাই এই কাজটা কোনো ডেভেলপার বা এজেন্সিকে দেন। দেওয়ার আগে এই প্রশ্নগুলো পরিষ্কার করে নিন:

  1. কতদিন পর পর আপডেট আর ব্যাকআপ হবে?
  2. ব্যাকআপ কোথায় থাকবে, আর আমি কি নিজে তার একটা কপি পাব?
  3. সাইট বন্ধ হলে বা হ্যাক হলে কত তাড়াতাড়ি সাড়া দেবেন?
  4. মাসে কতটা লেখা বা ছবি চেঞ্জ করার কাজ এর মধ্যে ধরা?
  5. প্রতি মাসে কী কী করলেন, তার একটা ছোট রিপোর্ট দেবেন কি?
  6. ডোমেইন, হোস্টিং আর অ্যাডমিনের লগইন আমার কাছেও থাকবে তো?

খরচ কত হবে, সেটা নির্ভর করে সাইটের আকার, প্লাগইন কতগুলো, অনলাইন পেমেন্ট বা বুকিং আছে কিনা, কত ঘন ঘন লেখা চেঞ্জ করতে হয়, আর প্রবলেম হলে কত তাড়াতাড়ি সাড়া চান — তার উপর। তাই আগে কাজটা পরিষ্কার লিখে নিন, তারপর কথা বলুন।

মেইনটেন্যান্স আর বেশি কাস্টমার — যোগটা কোথায়

অনেকে মেইনটেন্যান্সকে খরচের খাতায় রাখেন। আসলে এটা সেলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সাইট তাড়াতাড়ি খুললে লোকে বেশি পেজ দেখেন। WhatsApp বাটন ঠিক কাজ করলে মেসেজ আসে। ইনফো ঠিক থাকলে কাস্টমার ভরসা পান। ভিজিটরকে কিভাবে ফোন আর মেসেজে বদলানো যায়, সেটা ডিটেলসে লিখেছি ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার আনার গাইডে। কিন্তু তার আগে সাইটটাকে তো ঠিকঠাক চালু থাকতে হবে।

এটা দোকানের দেওয়ালে বা ফোনের নোটে রেখে দিন:

প্রতি সপ্তাহে

  • মোবাইলে সাইট খুলে দেখা
  • WhatsApp বাটন আর ফোন নম্বর টেস্ট
  • ফর্ম থেকে একটা টেস্ট মেসেজ

প্রতি মাসে

  • ব্যাকআপ নেওয়া হয়েছে কিনা
  • প্লাগইন, থিম, WordPress আপডেট
  • Search Console-এ নতুন এরর
  • খোলার সময়, অফার, সার্ভিস ঠিক আছে কিনা
  • অদরকারি প্লাগইন আর ইউজার সরানো

প্রতি তিন মাসে

  • PageSpeed Insights-এ মোবাইল স্পিড
  • সব পেজ ঘুরে ভাঙা লিংক আর পুরনো ছবি খোঁজা
  • ব্যাকআপ থেকে ফিরিয়ে আনার টেস্ট

প্রতি বছরে

  • ডোমেইন আর হোস্টিং-এর এক্সপায়ারি আর অটো-রিনিউ
  • পুরো সাইটের লেখা নতুন করে পড়া
  • নতুন ছবি
  • পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করা

শেষ কথা

ওয়েবসাইট মেইনটেন্যান্স শুনতে বড় ব্যাপার মনে হলেও আসলে এটা দোকানের রোজকার ঝাড়পোঁছের মতোই। নিয়ম করে অল্প অল্প করলে কখনও বড় প্রবলেমে পড়তে হয় না। ফেলে রাখলেই একদিন সাইট বন্ধ, হ্যাক বা ভুল ইনফোর ঝামেলা।

উপরের চেকলিস্টের যতটা পারেন নিজে করুন। আর যেটুকু সময় বা ভরসার অভাবে হয় না, সেটা কাউকে দিয়ে নিয়মিত করিয়ে নিন।

নিজে সামলাতে না চাইলে মেইনটেন্যান্সের দায়িত্ব আমাকে দিতে পারেন — আমি কী কী করি, সার্ভিস পেজে দেখুন, অথবা যোগাযোগ করুন। WhatsApp-এ সাইটের লিংক পাঠালে দেখে বলে দেব কোথায় কী দরকার।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

Website maintenance কতদিন পর পর করতে হয়?

সব কাজ একসঙ্গে নয়। সাইট খুলছে কিনা, ফর্ম আর WhatsApp বাটন কাজ করছে কিনা — এগুলো সপ্তাহে একবার দেখে নিন। প্লাগইন আর থিম আপডেট, ব্যাকআপ চেক আর Search Console দেখা মাসে একবার। ডোমেইন, হোস্টিং আর পুরো লেখা ঝালিয়ে নেওয়া বছরে এক-দুবার।

ওয়েবসাইট আপডেট না করলে কী হয়?

প্রথম কিছুদিন হয়তো কিছুই টের পাবেন না। কিন্তু পুরনো প্লাগইন আর থিমের ফাঁক দিয়েই বেশিরভাগ হ্যাক হয়। তাছাড়া পুরনো ফোন নম্বর, ভুল খোলার সময় বা বন্ধ হয়ে যাওয়া সার্ভিস সাইটে থেকে গেলে কাস্টমার এসে ফিরে যান। আপডেট মানে শুধু সফটওয়্যার নয়, ইনফোও।

টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়া কি নিজে সাইট মেইনটেন্যান্স করা যায়?

অনেকটাই যায়। লেখা-ছবি চেঞ্জ করা, সাইট খুলছে কিনা দেখা, ফর্ম টেস্ট করা, ডোমেইনের এক্সপায়ারি খেয়াল রাখা — এগুলো যে কেউ পারেন। তবে বড় আপডেট, হ্যাক হলে সাফ করা বা সার্ভারের প্রবলেম হলে একজন ডেভেলপারের সাহায্য নেওয়াই ভালো।

ওয়েবসাইট মেইনটেন্যান্সের খরচ কিসের উপর নির্ভর করে?

সাইট কত বড়, কত প্লাগইন আছে, অনলাইন পেমেন্ট বা বুকিং আছে কিনা, কত ঘন ঘন লেখা চেঞ্জ করতে হয়, আর কত তাড়াতাড়ি সাপোর্ট চান — এগুলোর উপর। আপনার সাইটের জন্য ঠিক কী লাগবে, WhatsApp-এ লিংক পাঠালে দেখে বলে দিতে পারি।

সাইটের ব্যাকআপ কোথায় রাখা উচিত?

শুধু হোস্টিং-এর ভেতরে নয়। হোস্টিং-এ কোনো প্রবলেম হলে ব্যাকআপও একসঙ্গে হারাতে পারে। অন্তত একটা কপি আলাদা জায়গায় রাখুন — যেমন Google Drive বা অন্য কোনো ক্লাউড স্টোরেজে। আর মাঝে মাঝে দেখে নিন ব্যাকআপটা সত্যিই ঠিকঠাক ফিরিয়ে আনা যায় কিনা।

সর্বশেষ আপডেট:

#SEO #ওয়েবসাইট #লোকাল ব্যবসা

WhatsApp