ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার আনবেন কিভাবে? ফোন আর অর্ডার বাড়ানোর উপায়

লিখেছেন সন্দীপন দাস · ৯ মিনিটে পড়ুন · আপডেট:

ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার — মোবাইলে সাইট দেখে WhatsApp বাটনে টিপছেন একজন

"ওয়েবসাইট তো বানালাম, কিন্তু ফোন তো আসে না!" — ব্যবসায়ীদের মুখে এই কথাটা আমি সবচেয়ে বেশি শুনি। ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার পেতে হলে শুধু সাইট থাকলেই হয় না; যিনি সাইটে আসছেন, তাঁকে প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই বুঝতে হবে আপনি কী করেন, আপনার উপর ভরসা করা যায় কিনা, আর এক টিপে কিভাবে যোগাযোগ করবেন। এই তিনটে ঠিক থাকলে একই লোক থেকে অনেক বেশি ফোন আর মেসেজ আসে। ভিজিটরকে কাস্টমার বানানোর এই কাজটাকেই ইংরেজিতে বলে website conversion।

এই লেখায় সেই তিনটে জিনিস ধরে ধরে, এক্সাম্পল দিয়ে বলছি — আর শেষে একটা চেকলিস্ট দিচ্ছি, যেটা দিয়ে আজই নিজের সাইট মিলিয়ে নিতে পারবেন।

ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার আসে না কেন: আগে বুঝুন লোকে সাইটে এসে কী করেন

ধরুন কেউ রাতে খাওয়ার পর মোবাইলে খুঁজছেন — বাড়ির জন্য একজন ভালো ইলেকট্রিশিয়ান লাগবে। Google থেকে উনি আপনার সাইটে এলেন। তারপর যা হয়:

  1. প্রথম পাঁচ সেকেন্ড — চোখ বুলিয়ে দেখেন, ঠিক জায়গায় এসেছেন কিনা। উপরে যদি লেখা থাকে "স্বাগতম আমাদের ওয়েবসাইটে", উনি কিছুই বোঝেন না।
  2. পরের কয়েক সেকেন্ড — খোঁজেন, এরা কি আমার এলাকায় কাজ করে? এদের উপর কি ভরসা করা যায়?
  3. ঠিক করে ফেলা — হয় ফোন বা মেসেজ করেন, নয়তো ব্যাক করে পরের সাইটে চলে যান।

পুরো ব্যাপারটা ঘটে মোবাইলে, অনেক সময় কম নেটে, আর খুব তাড়াতাড়ি। আপনার সাইটকে এই অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ করতে হবে।

ধাপ ১: প্রথম স্ক্রিনেই পরিষ্কার কথা

মোবাইলে সাইট খুললে স্ক্রল করার আগে যেটুকু দেখা যায়, সেটাই সবচেয়ে দামি জায়গা। এখানে থাকা উচিত:

  • আপনি কী করেন, এক লাইনে — "তমলুকে বাচ্চা আর বড়দের দাঁতের চিকিৎসা" বা "হাওড়া আর কলকাতায় বাড়িতে এসে এসি সার্ভিস"।
  • কাদের জন্য, কোথায় — এলাকার নাম পরিষ্কার।
  • একটা বড় বাটন — "WhatsApp করুন" বা "ফোন করুন"।

ভালো আর খারাপ এক্সাম্পল

খারাপভালো
"স্বাগতম! আমরা সেরা মানের সার্ভিস দিই""বেহালা আর আশপাশে প্লাম্বিং, পাইপ সারাই — ইমার্জেন্সিতে সেদিনই"
"Excellence in Education Since Years""ক্লাস ৫ থেকে ১২ — অঙ্ক আর সায়েন্সের কোচিং, দক্ষিণ কলকাতা"
পাতাজোড়া স্লাইডার, কোনো লেখা নেইএকটা আসল ছবি, তার উপর পরিষ্কার এক লাইন আর একটা বাটন

"সেরা", "ওয়ার্ল্ড ক্লাস", "অসাধারণ" — এগুলো সবাই লেখে, তাই কেউ বিশ্বাস করে না। স্পষ্ট কথা লিখুন।

ধাপ ২: যোগাযোগ যেন এক টিপের কাজ হয়

কাস্টমার যোগাযোগ করতে চাইলে তাঁকে যেন খুঁজতে না হয়।

WhatsApp বাটন

আমাদের এখানে অনেক কাস্টমার ফোনের চেয়ে WhatsApp-এ কথা বলতে বেশি স্বচ্ছন্দ। সাইটে একটা WhatsApp বাটন রাখুন, যেটায় টিপলেই সোজা আপনার নম্বরে চ্যাট খুলে যায়। WhatsApp নিজেই এর জন্য "click to chat" লিংকের অপশন রেখেছে — আলাদা কোনো প্লাগইন বা বাইরের স্ক্রিপ্ট লাগে না।

টিপস:

  • বাটনে আগে থেকে একটা ছোট মেসেজ লিখে রাখুন — "নমস্কার, ওয়েবসাইট থেকে যোগাযোগ করছি।" কাস্টমারকে ভাবতে হয় না কী লিখবেন, আর আপনিও বোঝেন মেসেজটা কোথা থেকে এল।
  • মোবাইলে বাটনটা পেজের নিচে এক কোণে রাখুন, যাতে স্ক্রল করলেও সব সময় হাতের কাছে থাকে।
  • মেসেজ এলে তাড়াতাড়ি উত্তর দিন। দেরি হলে কাস্টমার অন্য কাউকে মেসেজ করে ফেলেন।

ফোন নম্বর

ফোন নম্বর এমনভাবে দিন, যাতে মোবাইলে টিপলেই কল হয়। নম্বরটা কোনো ছবির মধ্যে লেখা থাকলে টিপে কল করা যায় না — অনেক সাইটে এই ভুলটা দেখি।

ফর্ম

যাঁরা পরে উত্তর চান বা ডিটেলসে লিখতে চান, তাঁদের জন্য একটা ছোট ফর্ম। তবে ফর্ম ছোট রাখুন:

  • নাম, ফোন নম্বর, আর "কী লাগবে" — এই তিনটেই যথেষ্ট।
  • ইমেল, ঠিকানা, পিনকোড, কোম্পানির নাম — শুরুতেই চাইবেন না। প্রতিটা বাড়তি ঘর কিছু লোককে থামিয়ে দেয়।
  • ফর্ম পাঠানোর পর পরিষ্কার জানান — "ধন্যবাদ, আজকের মধ্যেই ফোন করব।"

ধাপ ৩: ভরসা তৈরি করুন

নতুন কাস্টমার আপনাকে চেনেন না। ওঁর মনে প্রশ্ন — এরা আসল তো? ঠিকঠাক কাজ করবে তো? সাইটে এর উত্তর দিন:

  • আসল ছবি — দোকান, অফিস, স্টাফ, কাজ। ইন্টারনেটের স্টক ছবি চোখে পড়লেই লোকে বুঝে যান।
  • আসল কাস্টমারের কথা — Google রিভিউ থেকে কয়েকটা কথা, নাম সমেত (রিভিউ তো সবাই দেখতে পায়)। কখনও বানানো মতামত দেবেন না।
  • কে চালান — মালিক বা যিনি দেখাশোনা করেন, তাঁর নাম, ছবি আর দু-চার লাইনের পরিচয়। মানুষ মানুষকে ভরসা করে, লোগোকে নয়।
  • কতদিনের ব্যবসা — "২০০৮ থেকে এই পাড়ায়" — সত্যি হলে বড় করে লিখুন।
  • ঠিকানা আর ম্যাপ — একটা আসল ঠিকানা ভরসা অনেক বাড়ায়।
  • লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, কোম্পানির অনুমোদন — যা আপনার ব্যবসায় খাটে।

ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: অনেক সাইটে দেখি মালিক নিজের ছবি বা নাম দিতে লজ্জা পান। কিন্তু আমাদের এখানকার ব্যবসার সবচেয়ে বড় জোরই হল চেনাজানা — "এখানে মালিক নিজে দেখেন"। সাইটে আপনার মুখটা থাকলে সেই ভরসাটা অনলাইনেও পৌঁছে যায়।

ধাপ ৪: কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর আগেই দিয়ে রাখুন

যোগাযোগ করার আগে কাস্টমার মনে মনে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। সাইটে সেগুলো না পেলে অনেকে যোগাযোগই করেন না, ধরে নেন "হয়তো এরা করে না"। কমন প্রশ্ন:

  • আপনি কি আমার এলাকায় কাজ করেন / ডেলিভারি দেন?
  • কখন খোলা? ছুটি কবে?
  • কিভাবে পেমেন্ট নেন — ক্যাশ, UPI, কার্ড?
  • কাজ করতে কতদিন লাগে?
  • দাম কিসের উপর নির্ভর করে, আর কিভাবে জানব?

শেষ প্রশ্নটা নিয়ে আলাদা করে বলি। অনেক কাজের দাম আগে থেকে বলা যায় না — সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছুই না লিখলে কাস্টমার ভাবেন হয়তো অনেক খরচ। তাই লিখুন দাম কোন কোন জিনিসের উপর নির্ভর করে, আর সঙ্গে দিন একটা পরিষ্কার রাস্তা — "আপনার কাজের ছবি WhatsApp-এ পাঠান, কোটেশন দিয়ে দেব।"

প্রতিটা সার্ভিসের পেজের নিচে এরকম ছোট প্রশ্নোত্তর রাখলে কাস্টমারের দোটানা কমে, আর Google-এর সার্চেও কাজে লাগে।

ধাপ ৫: সাইট যেন মোবাইলে তাড়াতাড়ি খোলে

যত সুন্দরই হোক, সাইট খুলতে দেরি হলে কেউ অপেক্ষা করেন না। বিশেষ করে সস্তা ফোনে আর কম নেটে। কমন কারণ:

  • বড় বড় ছবি, যেগুলো ছোট করা হয়নি।
  • অনেক প্লাগইন, স্লাইডার আর অ্যানিমেশন।
  • বাইরের অনেক স্ক্রিপ্ট — চ্যাট উইজেট, সোশ্যাল মিডিয়ার ফিড।

একবার নিজের ফোনে, Wi-Fi বন্ধ করে, মোবাইল ডেটায় সাইটটা খুলে দেখুন। আপনি যা দেখবেন, কাস্টমারও তাই দেখেন।

ধাপ ৬: প্রতিটা পেজের একটা কাজ থাকুক

সাইটের প্রতিটা পেজের শেষে কাস্টমারকে বলে দিন এরপর কী করবেন। যেমন:

পেজশেষে কী থাকবে
হোম পেজ"কী লাগবে, WhatsApp-এ লিখুন" + বাটন
সার্ভিসের পেজএই সার্ভিস নিয়ে প্রশ্ন? — WhatsApp বা ফোন
কাজের নমুনা"এরকম কাজ করাতে চান?" + বাটন
ব্লগের লেখালেখার বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট্ট একটা ডাক
যোগাযোগের পেজফোন, WhatsApp, ফর্ম, ম্যাপ — সব এক জায়গায়

এক পেজে একটাই মেন কাজ রাখুন। পাঁচটা আলাদা বাটন থাকলে লোকে কোনোটাতেই টেপেন না।

ধাপ ৭: Google থেকে ঠিক লোক আনুন

কাস্টমার পাওয়ার আরেকটা দিক — সাইটে যাঁরা আসছেন, তাঁরা যেন সত্যিই আপনার কাস্টমার হতে পারেন। অনেক দূরের লোক আপনার পাড়ার দোকানের সাইটে এলে সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু কাজ আসে না।

এর জন্য:

  • Google Business Profile ঠিকঠাক রাখুন, যাতে আপনার এলাকার লোক আপনাকে খুঁজে পান।
  • সাইটে আপনার এলাকার নাম আর কাজের ডিটেলস পরিষ্কার লিখুন।
  • নিজের এলাকায় Google-এ এগিয়ে থাকার পুরো উপায় পড়ুন লোকাল এসইও গাইডে।

ধাপ ৮: হিসেব রাখুন, তারপর চেঞ্জ করুন

কী কাজ করছে আর কী করছে না, না জানলে ইমপ্রুভ করা যায় না। মাসে একবার দেখুন:

  • Google Search Console-এ সাইটে কতজন এলেন, কোন পেজে।
  • WhatsApp-এ "ওয়েবসাইট থেকে যোগাযোগ করছি" মেসেজ কটা এল।
  • কটা ফোন এল, আর নতুন কাস্টমার কোথা থেকে খোঁজ পেলেন।

তারপর একবারে একটা জিনিস চেঞ্জ করুন — হয়তো প্রথম স্ক্রিনের লেখা, বা বাটনের জায়গা — আর পরের মাসে মিলিয়ে দেখুন।

যে ৭টা ভুল কাস্টমার তাড়িয়ে দেয়

অনেক সাইটে সব থাকা সত্ত্বেও কাস্টমার আসেন না, কারণ ছোট ছোট কয়েকটা জিনিস ওঁদের থামিয়ে দেয়:

ভুলকাস্টমারের মনে কী হয়কী করবেন
পুরনো ইনফো (বন্ধ নম্বর, পুরনো সময়)"এরা কি এখনও ব্যবসা চালায়?"মাসে একবার সব ডিটেলস মিলিয়ে নিন
শুধু ইংরেজি, কঠিন শব্দে"এটা আমার জন্য নয়"কাস্টমার যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষায় লিখুন
যোগাযোগের ডিটেলস শুধু নিচেখুঁজে না পেয়ে চলে যানউপরে, আর নিচে সব সময় দেখা যায় এমন বাটন
মোবাইলে লেখা খুব ছোট বা পাশে কেটে যায়পড়তে কষ্ট, তাই ছেড়ে দেননিজের ফোনে প্রতিটা পেজ দেখে নিন
অনেক পেজ, কিন্তু প্রতিটায় দু'লাইনমনে হয় অর্ধেক কাজপেজ কম, কিন্তু প্রতিটা পুরো
ফর্ম পাঠালে কোনো উত্তর আসে নাপরের বার আর চেষ্টা করেন নাফর্মের মেসেজ রোজ দেখুন, তাড়াতাড়ি ফোন করুন
ভাঙা লিংক বা ফাঁকা পেজসাইটটা অবহেলায় পড়ে আছে মনে হয়মাঝে মাঝে সব লিংকে টিপে দেখুন

শেষের দুটো আসলে সাইটের নয়, ব্যবসার অভ্যেসের ব্যাপার। সবচেয়ে ভালো সাইটও কাজে আসে না, যদি এনকোয়ারি এলে কেউ উত্তর না দেন।

পুরনো কাস্টমারকে ফিরিয়ে আনতেও সাইট কাজে লাগে

নতুন কাস্টমার খোঁজার চেয়ে পুরনো খুশি কাস্টমারকে আবার পাওয়া প্রায়ই সহজ। এখানেও সাইট সাহায্য করে:

  • নতুন সার্ভিস বা মালের পেজ — নতুন কিছু শুরু করলে সাইটে একটা পেজ বানিয়ে সেই লিংক পুরনো কাস্টমারদের WhatsApp-এ পাঠান। শুধু "নতুন এসেছে" লেখার চেয়ে ছবি আর ডিটেলস সমেত লিংক অনেক বেশি কাজ করে।
  • রিভিউর লিংক — কাজ শেষে ধন্যবাদের মেসেজে Google রিভিউর লিংক দিন। নতুন রিভিউ পরের কাস্টমারকে টেনে আনে।
  • সিজন অনুযায়ী মনে করানো — এসির লোক গরম পড়ার আগে, কোচিং সেন্টার ভর্তির আগে, মিষ্টির দোকান পুজোর আগে — সাইটের ওই পেজের লিংক দিয়ে পুরনো কাস্টমারদের মনে করিয়ে দিন। তবে শুধু তাঁদেরই পাঠান, যাঁরা আপনার মেসেজ পেতে রাজি।

নিজের সাইট মিলিয়ে নেওয়ার চেকলিস্ট

নিজের ফোনে সাইট খুলে এক এক করে মিলিয়ে নিন:

  • প্রথম স্ক্রিনেই এক লাইনে বোঝা যায় আপনি কী করেন আর কোথায়।
  • স্ক্রল না করেই একটা যোগাযোগের বাটন দেখা যায়।
  • WhatsApp বাটনে টিপলে সোজা চ্যাট খোলে, আগে থেকে লেখা মেসেজ সমেত।
  • ফোন নম্বরে টিপলে কল হয়।
  • ফর্মে তিন-চারটের বেশি ঘর নেই।
  • আসল ছবি আছে — দোকান, কাজ, মানুষ।
  • আসল কাস্টমারের কথা আছে।
  • মালিক বা যিনি দেখেন, তাঁর পরিচয় আছে।
  • কখন খোলা, কোন এলাকা, কিভাবে পেমেন্ট — লেখা আছে।
  • দাম কিসের উপর নির্ভর করে, আর কিভাবে জানবেন — বলা আছে।
  • মোবাইল ডেটায় সাইট তাড়াতাড়ি খোলে।
  • পুরো স্ক্রিন ঢাকা পপ-আপ নেই।
  • প্রতিটা পেজের শেষে পরিষ্কার "এরপর কী করবেন"।

যে ঘরগুলোতে "না" এল, সেগুলোই আপনার কাজের লিস্ট।

শেষ কথা

ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার আনা কোনো জটিল কায়দা নয়। কাস্টমারের জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাবুন — উনি তাড়াতাড়ি জানতে চান আপনি কী করেন, আপনার উপর ভরসা করা যায় কিনা, আর কিভাবে যোগাযোগ করবেন। এই তিনটে সহজ করে দিলেই একই সাইট থেকে অনেক বেশি কাজ আসে।

এখনও সাইট না থাকলে আগে পড়ুন ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট কেন দরকার। আর সাইটে লোক আসছে কিন্তু এনকোয়ারি আসছে না — এমন হলে যোগাযোগ করুন। সাইটের লিংক WhatsApp-এ পাঠান, দেখে বলে দেব কাস্টমার কোথায় আটকে যাচ্ছেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

ওয়েবসাইটে দাম না লিখলে কি কাস্টমার যোগাযোগ করেন?

করেন, যদি সাইটে পরিষ্কার লেখা থাকে দাম কিসের উপর নির্ভর করে আর জানার সহজ রাস্তা কোনটা। অনেক কাজের দাম আগে থেকে এক কথায় বলা যায় না। তখন লিখুন 'আপনার কাজের ডিটেলস পাঠান, পরিষ্কার কোটেশন দেব' — আর পাশেই একটা WhatsApp বাটন রাখুন।

ফোন নম্বর দেব, না WhatsApp, না ফর্ম?

তিনটেই রাখুন, কারণ সবাই একভাবে যোগাযোগ করতে পছন্দ করেন না। তবে মোবাইলে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো করে রাখুন সেটা, যেটা আপনার কাস্টমার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন — আমাদের এখানে অনেক জায়গায় সেটা WhatsApp।

Website conversion মাপব কিভাবে — কতজন এল আর কতজন যোগাযোগ করল?

Google Search Console বলে দেবে কতজন Google থেকে এসেছেন। আর সাইটের WhatsApp বাটনে আগে থেকে একটা ছোট মেসেজ লিখে রাখলে ('ওয়েবসাইট থেকে যোগাযোগ করছি'), বোঝা যায় কোন মেসেজটা সাইট থেকে এল। নতুন কাস্টমারকে মুখে জিজ্ঞেস করাটাও খুব কাজের।

সাইটে পপ-আপ দিলে কি বেশি এনকোয়ারি আসে?

সাধারণত উল্টোটা হয়। মোবাইলে পেজ খুলতেই পুরো স্ক্রিন ঢেকে দেওয়া পপ-আপ বিরক্তিকর, অনেকে ওটা দেখেই চলে যান। তার বদলে পেজের নিচে এক কোণে একটা ছোট WhatsApp বাটন রাখুন, যেটা সব সময় দেখা যায় কিন্তু পড়তে বাধা দেয় না।

পুরনো সাইট ভেঙে নতুন বানাতে হবে?

সব সময় না। অনেক সময় পুরনো সাইটেই কয়েকটা জিনিস ঠিক করলেই রেজাল্ট চেঞ্জ হয়ে যায় — উপরের লেখা, যোগাযোগের বাটন, স্পিড আর আসল ছবি। আগে এই সহজ জিনিসগুলো ঠিক করে দেখুন, তারপর নতুন সাইটের কথা ভাবুন।

সর্বশেষ আপডেট:

#WhatsApp #ওয়েবসাইট #লোকাল ব্যবসা

WhatsApp