ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট নিরাপদে করবেন কিভাবে: সাইট না ভেঙে

লিখেছেন সন্দীপন দাস · ৬ মিনিটে পড়ুন · আপডেট:

WordPress ড্যাশবোর্ডে আপডেট পেজ, পাশে ব্যাকআপ নেওয়ার চিহ্ন

ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট (WordPress update) সেফলি করার নিয়ম আসলে চারটে কথায়: আগে পুরো ব্যাকআপ, তারপর একটা একটা করে আপডেট, প্রতিবার সাইট খুলে চেক, আর বড় সাইট হলে আগে একটা স্টেজিং কপিতে চালিয়ে দেখা। এটুকু মানলে "Update Now" বাটনে ভয় পাওয়ার কিছু থাকে না।

ড্যাশবোর্ডে লাল সংখ্যাটা জমতে জমতে বারো-চোদ্দো হয়ে গেছে, আর আপনি ভাবছেন "চাপলে যদি সাইটটাই চলে যায়?" — এই ভয়টা খুব নরমাল। এই লেখা ঠিক আপনার জন্য।

প্রথমে বুঝে নিন: ওয়ার্ডপ্রেস কী, আর কী কী আপডেট হয়

WordPress হল সেই সফটওয়্যার, যার উপর আপনার সাইট চলে। এর তিনটে অংশ আলাদা আলাদা আপডেট পায়:

কীকী কাজ করেকতবার আপডেট আসে
WordPress কোরমেন সফটওয়্যারবড় ভার্সন বছরে কয়েকবার, ছোট (সিকিউরিটি) আপডেট মাঝে মাঝে
প্লাগইনবাড়তি ফিচার — ফর্ম, SEO, ব্যাকআপ, অনলাইন অর্ডারপ্লাগইন অনুযায়ী, কোনোটা প্রায় প্রতি মাসে
থিমসাইটের চেহারা আর ডিজাইনথিম অনুযায়ী

এছাড়া ভাষার ফাইল (translations) আপডেট আসে, ওগুলো নিয়ে চিন্তা নেই। আর সার্ভারে PHP-র ভার্সনও মাঝে মাঝে বাড়াতে হয় — সেটা হোস্টিং প্যানেল থেকে হয়।

ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট কেন জরুরি

তিনটে সোজা কারণ:

  1. সিকিউরিটি — বেশিরভাগ হ্যাক হয় পুরনো প্লাগইন বা থিমের ফাঁক দিয়ে। আপডেট মানে সেই ফাঁক বন্ধ করা।
  2. সব কিছু একসঙ্গে চলা — নতুন WordPress-এর সঙ্গে পুরনো প্লাগইন সব সময় মেলে না। রেগুলার আপডেট করলে এই ঝামেলা কম।
  3. স্পিড আর নতুন ফিচার — অনেক আপডেটে সাইট একটু তাড়াতাড়ি চলে, ছোটখাটো ভুল ঠিক হয়।

আপডেট না করে ফেলে রাখলে ভয়টা আরও বাড়ে। দশটা আপডেট একসঙ্গে করা, একটা করে দশবার করার চেয়ে অনেক বেশি রিস্কের।

সাইট না ভেঙে আপডেট: স্টেপ বাই স্টেপ

ধাপ ১: পুরো ব্যাকআপ নিন

এটা বাদ দেবেন না, কোনোদিনও না। ব্যাকআপে দুটো জিনিস থাকতে হবে — সাইটের ফাইল আর ডেটাবেস। শুধু একটা থাকলে রিস্টোর কাজ করবে না।

ব্যাকআপ প্লাগইন দিয়ে নিতে পারেন, বা হোস্টিং প্যানেল থেকে। আর ব্যাকআপটা ডাউনলোড করে বা সাইটের সার্ভারের বাইরে কোথাও রাখুন। সার্ভারেই প্রবলেম হলে, সেখানে রাখা ব্যাকআপও কাজে আসবে না।

ধাপ ২: সময় বাছুন

যখন সাইটে সবচেয়ে কম লোক থাকে — অনেক ব্যবসার জন্য সকালের দিকে বা রাতে। আর তাড়াহুড়োর দিনে নয়। পুজোর আগে অর্ডারের ভিড়ের মধ্যে আপডেট করবেন না।

হাতে আধঘণ্টা-একঘণ্টা সময় রাখুন, যাতে কিছু গোলমাল হলে বসে ঠিক করতে পারেন।

ধাপ ৩: স্টেজিং থাকলে আগে সেখানে

স্টেজিং মানে আপনার সাইটের একটা হুবহু কপি, যেটা কাস্টমার দেখতে পান না। আগে সেখানে আপডেট করে দেখুন সব ঠিক আছে কিনা, তারপর আসল সাইটে করুন। অনেক হোস্টিং প্যানেলে এক ক্লিকে স্টেজিং কপি বানানোর অপশন থাকে, কিছু প্লাগইন দিয়েও করা যায়।

ছোট, সাধারণ সাইটে স্টেজিং না থাকলেও চলে — যদি ব্যাকআপ ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু অনলাইন অর্ডার বা বুকিং চলে এমন সাইটে স্টেজিং থাকলে অনেক নিশ্চিন্ত।

ধাপ ৪: একটা অর্ডার মেনে আপডেট করুন

আমি সাধারণত এই অর্ডারে করি:

  1. প্লাগইন — একটা একটা করে। "সব সিলেক্ট করে আপডেট" না করে একটা আপডেট, তারপর সাইট দেখে নেওয়া। তাহলে কিছু ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় কোনটা দোষী।
  2. থিম। থিমের ফাইলে সরাসরি কেউ কোড চেঞ্জ করে থাকলে আপডেটে সেই চেঞ্জ মুছে যেতে পারে। তাই কাস্টম চেঞ্জ চাইল্ড থিমে আছে কিনা, আগে জেনে নিন।
  3. WordPress কোর। সবশেষে মেন সফটওয়্যার।

কোনো প্লাগইনের আপডেট যদি বলে "নতুন WordPress ভার্সন লাগবে", তাহলে আগে কোর আপডেট করে নিন। আসল কথা অর্ডার নয় — আসল কথা হল একসঙ্গে সব না চাপানো, আর প্রতিবার চেক করা।

আপডেট দেওয়ার আগে প্লাগইনের "View details" খুলে দেখে নিন, আপনার WordPress ভার্সনের সঙ্গে টেস্ট করা হয়েছে কিনা। অনেকদিন আপডেট পায়নি এমন প্লাগইন থাকলে সেটা নিয়েও ভাবুন।

ধাপ ৫: প্রতিবার চেক করুন

আপডেটের পরে এই জিনিসগুলো খুলে দেখুন — মোবাইলে আর কম্পিউটারে দুটোতেই:

  • হোমপেজ ঠিক দেখাচ্ছে
  • মেনু কাজ করছে
  • যোগাযোগের ফর্ম থেকে একটা টেস্ট মেসেজ যাচ্ছে
  • WhatsApp আর ফোন বাটন কাজ করছে
  • অনলাইন অর্ডার বা বুকিং থাকলে একটা টেস্ট করে দেখা
  • অ্যাডমিন প্যানেলে ঢোকা যাচ্ছে

ব্রাউজারে আগের পুরনো পেজ ক্যাশে থেকে যেতে পারে, তাই একবার প্রাইভেট উইন্ডোতেও খুলে দেখুন।

ধাপ ৬: কী আপডেট করলেন, লিখে রাখুন

একটা খাতা বা ফোনের নোটে — তারিখ, কোন প্লাগইন, কোন ভার্সন। দু'দিন পরে কোনো প্রবলেম চোখে পড়লে বুঝতে সুবিধে হবে কোন আপডেটের পর থেকে হচ্ছে।

অটো-আপডেট: কোনটা চালু রাখবেন

WordPress-এর ছোট সিকিউরিটি আপডেটগুলো (যেমন x.x.1 থেকে x.x.2) সাধারণত নিজে থেকেই হয়ে যায় — এগুলো চালু রাখুন। এগুলোয় বড় কিছু চেঞ্জ হয় না, আর সিকিউরিটির ফাঁক তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়।

ড্যাশবোর্ডের Updates পেজে বড় ভার্সনের অটো-আপডেট চালু বা বন্ধ করার অপশন থাকে। প্লাগইন আর থিমের লিস্টেও প্রতিটার পাশে অটো-আপডেট চালু করার লিংক থাকে। আমার সাজেশন:

  • চালু রাখুন: কোরের ছোট আপডেট, আর ছোট, ভরসা করা যায় এমন প্লাগইন
  • নিজে করুন: কোরের বড় ভার্সন, পেজ বিল্ডার, অনলাইন দোকান বা বুকিং-এর প্লাগইন, আর থিম

WordPress-এর নিজের ডকুমেন্টেশনে আপডেটের নিয়ম বিস্তারিত বলা আছে (WordPress: Updating WordPress)।

PHP ভার্সনটাও একবার দেখে নিন

WordPress যে সার্ভারে চলে, সেখানে PHP নামে একটা জিনিস থাকে। এটা খুব পুরনো হলে নতুন প্লাগইন ঠিকমতো চলে না, আর সিকিউরিটির রিস্কও বাড়ে।

ড্যাশবোর্ডে Tools-এর ভেতরে Site Health খুলুন। সেখানে WordPress নিজেই বলে দেয় PHP পুরনো কিনা, আর কী কী ঠিক করা দরকার। PHP চেঞ্জ করতে হলে হোস্টিং প্যানেল থেকে করা যায় — কিন্তু আগে ব্যাকআপ, আর পারলে আগে স্টেজিংয়ে চালিয়ে দেখা। ভরসা না পেলে হোস্টিং সাপোর্টকে জিজ্ঞেস করুন।

কিছু ভাঙলে কী করবেন

  1. ঘাবড়াবেন না। ব্যাকআপ আছে, তাই সাইট হারায়নি।
  2. কোন আপডেটের পরে ভাঙল, দেখুন। একটা একটা করে করলে এটা সহজেই বোঝা যায়।
  3. ওই প্লাগইন বন্ধ করুন। অ্যাডমিনে ঢুকতে না পারলে, WordPress অনেক সময় অ্যাডমিন ইমেলে রিকভারি মোডের লিংক পাঠায়। না হলে হোস্টিংয়ের ফাইল ম্যানেজারে wp-content/plugins-এর ভেতরে ওই প্লাগইনের ফোল্ডারের নাম চেঞ্জ করে দিন।
  4. তাতেও না হলে ব্যাকআপ রিস্টোর। তারপর প্লাগইনের ডেভেলপারকে জানান, বা নতুন আপডেট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: সাইট ভাঙার পেছনে আপডেট নিজে প্রায় কখনোই আসল কারণ নয় — আসল কারণ হল অনেক মাস আপডেট না করে, ব্যাকআপ ছাড়া, সব একসঙ্গে চাপিয়ে দেওয়া। মাসে একবার রুটিন করে একটু টাইম দিলে আপডেট একটা সাধারণ, বোরিং কাজ হয়ে যায়। বোরিং হওয়াটাই ভালো।

মাসের আপডেট চেকলিস্ট

  • পুরো ব্যাকআপ (ফাইল আর ডেটাবেস), সার্ভারের বাইরে একটা কপি
  • স্টেজিং থাকলে আগে সেখানে টেস্ট
  • প্লাগইন একটা একটা করে, তারপর থিম, তারপর কোর
  • প্রতিবার হোমপেজ, ফর্ম, বাটন আর অর্ডার চেক
  • যে প্লাগইন লাগে না, পুরো সরিয়ে দেওয়া
  • কী আপডেট হল, তারিখ সহ লিখে রাখা

এটা মাসের দেখভালের একটা অংশ মাত্র। পুরো লিস্ট পাবেন ওয়েবসাইট মেইনটেন্যান্সের পুরো গাইডে। সাইট আরও সেফ রাখার বাকি উপায় আছে ওয়েবসাইট সিকিউরিটির লেখায়। আর যদি কখনও সন্দেহ হয় সাইট হ্যাক হয়েছে, তখন কী করবেন — সেটা দেখুন ওয়েবসাইট হ্যাক হলে কী করবেন, সেই চেকলিস্টে।

শেষ কথা

ওয়ার্ডপ্রেস আপডেটে ভয়ের কিছু নেই, যদি নিয়মটা মানেন — ব্যাকআপ, একটা একটা করে, প্রতিবার চেক। এটা অভ্যেস হয়ে গেলে দশ-পনেরো মিনিটের কাজ।

তবে এই দায়িত্ব নিজে সামলাতে না চাইলে, সাইটের দেখভালের দায়িত্ব আমাকে দিতে পারেন। যোগাযোগ করুন — WhatsApp-এ সাইটের লিংক পাঠান। কী কী কাজ করি, দেখে নিন সার্ভিস পেজে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

WordPress update না করলে কী হয়?

সাইট হয়তো কিছুদিন ঠিকঠাক চলবে, কিন্তু পুরনো প্লাগইন আর থিমে যে সিকিউরিটির ফাঁক থাকে, সেগুলো খোলাই থেকে যায়। হ্যাকাররা ঠিক এই পুরনো ভার্সনগুলোই খোঁজে। তাছাড়া অনেকদিন আপডেট না করলে পরে একসঙ্গে অনেক কিছু আপডেট করতে গিয়ে সাইট ভাঙার চান্স বেশি।

কতদিন অন্তর আপডেট চেক করা উচিত?

অন্তত সপ্তাহে একবার ড্যাশবোর্ডে চোখ রাখুন, আর মাসে একবার ঠিকঠাক বসে সব আপডেট করুন। কোনো প্লাগইনে সিকিউরিটি আপডেট এলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি করে নিন।

আপডেটের পরে সাইট সাদা হয়ে গেলে কী করব?

ঘাবড়াবেন না। WordPress অনেক সময় অ্যাডমিন ইমেলে একটা রিকভারি মোডের লিংক পাঠায়, সেখান থেকে গোলমেলে প্লাগইন বন্ধ করা যায়। না হলে হোস্টিংয়ের ফাইল ম্যানেজারে ওই প্লাগইনের ফোল্ডারের নাম চেঞ্জ করে দিলেও সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তাতেও না হলে আপডেটের আগের ব্যাকআপ রিস্টোর করুন।

সব প্লাগইনে অটো-আপডেট চালু করে দিলে কি চলবে?

ছোট, ভরসা করা যায় এমন প্লাগইনে চালু রাখা যায়। কিন্তু যে প্লাগইনে সাইটের বড় কাজ চলে — অনলাইন অর্ডার, পেজ বিল্ডার, বুকিং — সেগুলো নিজে চোখের সামনে আপডেট করাই ভালো, যাতে কিছু গোলমাল হলে সঙ্গে সঙ্গে ধরতে পারেন।

সর্বশেষ আপডেট:

#SEO #ওয়েবসাইট

WhatsApp