গুগল বিজনেস প্রোফাইল: খোলা থেকে ম্যাপে উপরে আসা — পুরো গাইড

লিখেছেন সন্দীপন দাস · ১১ মিনিটে পড়ুন · আপডেট:

গুগল বিজনেস প্রোফাইল গাইড — মোবাইলে Google Maps-এ দোকানের লোকেশন পিন

গুগল বিজনেস প্রোফাইল (Google Business Profile) হল Google-এর একটা ফ্রি সার্ভিস, যেটা দিয়ে আপনার দোকান বা অফিস Google Maps আর Google সার্চে দেখা যায় — নাম, ঠিকানা, ফোন, কখন খোলা, ছবি আর রিভিউ সমেত। কেউ "কাছাকাছি ওষুধের দোকান" বা "হলদিয়া মিষ্টির দোকান" লিখে সার্চ করলে ম্যাপে যে কয়েকটা দোকান সবার আগে আসে, সেগুলো এই প্রোফাইল থেকেই আসে।

এই গাইডে প্রোফাইল খোলা থেকে ভেরিফাই করা, সব ডিটেলস ঠিকঠাক সাজানো, রিভিউ আর ম্যাপে উপরে আসার নিয়ম — সব ধাপে ধাপে বলছি।

গুগল বিজনেস প্রোফাইল কী, আর কেন এত জরুরি

আগে এটার নাম ছিল Google My Business — অনেকে এখনও ওই নামেই চেনেন। কাজ একই: Google-কে আপনার ব্যবসার ঠিক ইনফোটা জানানো, যাতে কাস্টমার খুঁজলে ঠিক জিনিসটা দেখেন।

একবার ভাবুন তো, আপনি নিজে শেষ কবে কোনো নতুন দোকান বা ডাক্তার খুঁজেছেন। খুব সম্ভবত মোবাইলে Google খুলে লিখেছেন, ম্যাপে কয়েকটা নাম এসেছে, রিভিউ দেখেছেন, তারপর সোজা "Call" বা "Directions" টিপেছেন। কোনো ওয়েবসাইটে না ঢুকেই ঠিক করে ফেলেছেন।

আপনার কাস্টমারও ঠিক এটাই করছেন। আর সেখানে আপনার প্রোফাইল না থাকলে, বা থাকলেও ভুল ইনফো থাকলে, ফোনটা অন্য কেউ পাচ্ছে।

প্রোফাইল থেকে কাস্টমার কী কী করতে পারেন

  • এক টিপে ফোন করা
  • দোকানে যাওয়ার রাস্তা দেখা
  • কখন খোলা দেখা (আজ খোলা কিনা)
  • ছবি দেখা — দোকানের ভেতর-বাইরে, মাল, কাজ
  • রিভিউ পড়া আর লেখা
  • ওয়েবসাইটে যাওয়া

Google কিভাবে ঠিক করে কোন দোকান উপরে আসবে

Google নিজেই তিনটে মেন জিনিসের কথা বলে (Google-এর লোকাল র‍্যাঙ্কিং গাইড):

জিনিসমানে কীআপনি কী করতে পারেন
মিল (Relevance)যিনি সার্চ করছেন, তাঁর খোঁজার সঙ্গে আপনার ব্যবসা কতটা মিলছেঠিক ক্যাটাগরি, পুরো ইনফো, কী কী সার্ভিস দেন তার ডিটেলস
দূরত্ব (Distance)যিনি সার্চ করছেন, তাঁর থেকে আপনার দোকান কত দূরেঠিক ঠিকানা আর ম্যাপে ঠিক জায়গায় পিন — দূরত্ব তো আর চেঞ্জ করা যায় না
নাম-ডাক (Prominence)আপনার ব্যবসা কতটা চেনা আর ভরসাররিভিউ, রেটিং, অনলাইনে অন্য জায়গায় নাম থাকা, ওয়েবসাইট

দূরত্ব আপনার হাতে নেই। কিন্তু বাকি দুটো পুরোপুরি আপনার হাতে — আর এই গাইডের বাকিটা সেটা নিয়েই।

ধাপ ১: আগে দেখে নিন প্রোফাইল আছে কিনা

অনেক সময় আপনার অজান্তেই কোনো কাস্টমার বা Google নিজে আপনার দোকানটা ম্যাপে তুলে রেখেছে। নতুন প্রোফাইল খোলার আগে Google Maps-এ নিজের দোকানের নাম আর এলাকা লিখে সার্চ করুন।

  • পেলেন? তাহলে "Own this business?" লিংকে টিপে ওটা নিজের নামে ক্লেম করুন।
  • পেলেন না? তাহলে নতুন প্রোফাইল খুলুন।

একই দোকানের দুটো প্রোফাইল থাকলে ঝামেলা — রিভিউ ভাগ হয়ে যায়, Google গুলিয়ে ফেলে। তাই আগে খুঁজে নেওয়াটা জরুরি। Google Business Profile-এর হেল্প পেজে "Add or claim your Business Profile" অংশে এটা ডিটেলসে আছে।

ধাপ ২: নতুন প্রোফাইল খোলা

একটা Google অ্যাকাউন্ট (Gmail) লাগবে। ব্যবসার জন্য আলাদা একটা Gmail রাখাই ভালো, যার পাসওয়ার্ড থাকবে আপনার কাছে — স্টাফ বা ডেভেলপারের কাছে নয়।

তারপর business.google.com-এ গিয়ে এই ডিটেলসগুলো দিন:

  1. ব্যবসার নাম — হুবহু যা দোকানের বোর্ডে লেখা।
  2. ক্যাটাগরি — আপনার ব্যবসাটা আসলে কী। এটা নিয়ে নিচে আলাদা করে বলছি।
  3. কাস্টমার কি আপনার কাছে আসেন? — দোকান, চেম্বার বা অফিস থাকলে "Yes" দিয়ে ঠিকানা দিন।
  4. সার্ভিস এরিয়া — কাস্টমারের বাড়ি গিয়ে কাজ করলে কোন কোন এলাকায় যান, সেটা দিন।
  5. ফোন নম্বর আর ওয়েবসাইট — এমন নম্বর, যেটায় সত্যি কেউ ফোন ধরেন।

ঠিকানা লেখার সময় খেয়াল রাখুন

আমাদের এখানে অনেক ঠিকানায় রাস্তার নাম নেই, থাকলেও লোকে অন্য নামে চেনে। তাই:

  • চেনা ল্যান্ডমার্ক দিন — "বাসস্ট্যান্ডের পাশে", "থানার উল্টোদিকে"।
  • পিনকোড ঠিক দিন।
  • ম্যাপে লাল পিনটা ঠিক দোকানের উপর বসান — পাশের বাড়িতে নয়।

পিন ভুল জায়গায় থাকলে কাস্টমার "Directions" দেখে অন্য জায়গায় পৌঁছে যান, আর রেগে গিয়ে খারাপ রিভিউ দেন।

ধাপ ৩: ভেরিফিকেশন

প্রোফাইল খোলার পর Google চেক করে নেয় আপনিই আসল মালিক কিনা। ভেরিফাই না হলে প্রোফাইল ঠিকমতো দেখায় না, আর অনেক কিছু চেঞ্জ করাও যায় না।

Google এখন বেশিরভাগ সময় ভিডিও ভেরিফিকেশন চায়। কিছু ব্যবসার জন্য ফোন, ইমেল বা অন্য উপায়ও আসতে পারে — কোনটা আসবে, Google নিজে ঠিক করে, আপনি বাছতে পারেন না।

ভিডিও ভেরিফিকেশনের টিপস

  • দোকানের বাইরে থেকে শুরু করুন — বোর্ড, সামনের রাস্তা, পাশের দোকান যেন দেখা যায়।
  • তারপর ভেতরে ঢুকুন — মাল, কাউন্টার, মেশিন — যা দেখে বোঝা যায় এখানে সত্যিই ব্যবসা চলে।
  • শেষে এমন কিছু দেখান যা শুধু মালিকের কাছে থাকে — চাবি দিয়ে তালা খোলা, ক্যাশ কাউন্টার, বা ব্যবসার কোনো কাগজ।
  • একটানা ভিডিও করুন, মাঝে কাটবেন না। দিনের আলোয় করলে ভালো।

ভেরিফিকেশন বারবার বাতিল হলে মন খারাপ করবেন না — বেশিরভাগ সময় ভিডিওতে কোনো একটা জিনিস পরিষ্কার দেখা যায়নি বলে এমন হয়। আবার চেষ্টা করুন।

ধাপ ৪: ঠিক ক্যাটাগরি বাছা — সবচেয়ে জরুরি কাজ

ক্যাটাগরি দেখেই Google বোঝে আপনি কী করেন, আর কোন সার্চে আপনাকে দেখাবে। একটা মেন ক্যাটাগরি আর কয়েকটা বাড়তি ক্যাটাগরি দেওয়া যায়।

  • মেন ক্যাটাগরি হবে আপনার আসল ব্যবসা — যত স্পষ্ট, তত ভালো। শুধু "দোকান"-এর চেয়ে "Hardware store" বা "Sweet shop" অনেক ভালো।
  • বাড়তি ক্যাটাগরিতে আপনার অন্য কাজগুলো দিন — কিন্তু শুধু সেগুলোই, যা সত্যিই করেন।
  • ক্যাটাগরির লিস্ট ইংরেজিতে — বাংলায় না পেলে ইংরেজি নামেই খুঁজুন।

একটা সহজ উপায়: আপনার এলাকায় যারা ম্যাপে উপরে আসে, তাদের প্রোফাইলে কোন ক্যাটাগরি দেওয়া আছে দেখে নিন। নামের ঠিক নিচেই ক্যাটাগরি লেখা থাকে।

ধাপ ৫: প্রোফাইলের সব ঘর ভরুন

Google বলে, প্রোফাইলে সব ইনফো ঠিকঠাক আর পুরোটা দিলে লোকে সার্চ করলে দেখানোর চান্স বাড়ে। তাই কোনো ঘর ফাঁকা রাখবেন না।

কখন খোলা

  • রোজকার সময় ঠিকঠাক দিন, দুপুরে বন্ধ থাকলে সেটাও।
  • পুজো, ঈদ, বড়দিন, পয়লা বৈশাখের মতো ছুটিতে "Special hours" দিয়ে দিন।
  • রবিবার বন্ধ থাকলে পরিষ্কার লিখুন।

ভুল সময় দেখে কেউ এসে দোকান বন্ধ পেলেন — মানে প্রায় নিশ্চিত একটা খারাপ রিভিউ।

ব্যবসার ডিটেলস

নিজের ব্যবসা নিয়ে কয়েক লাইন লেখার জায়গা আছে। এখানে লিখুন:

  • কী করেন, কবে থেকে করছেন।
  • কোন সার্ভিস বা জিনিস আপনার স্পেশাল।
  • কোন এলাকার কাস্টমারদের সার্ভিস দেন।

বাংলা আর ইংরেজি মিশিয়েই লিখতে পারেন, কারণ লোকে দু'ভাষাতেই সার্চ করেন। কিন্তু একই শব্দ বারবার ঠুসে দেবেন না — স্বাভাবিকভাবে লিখুন। এখানে ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না — ওগুলোর আলাদা জায়গা আছে।

সার্ভিস আর প্রোডাক্ট

প্রোফাইলে সার্ভিসের লিস্ট আর প্রোডাক্ট দেওয়ার জায়গা আছে। প্রতিটার সঙ্গে ছোট্ট ডিটেলস আর ছবি দিন। কাস্টমার এক নজরে বুঝে যান আপনার কাছে কী কী পাওয়া যায়।

অ্যাট্রিবিউট

"হুইলচেয়ার নিয়ে ঢোকা যায়", "অনলাইন পেমেন্ট নেওয়া হয়", "মহিলা পরিচালিত" — এরকম কিছু জিনিস টিক দিয়ে দেওয়া যায়। যেগুলো সত্যি, সেগুলো দিন।

ধাপ ৬: ছবি — সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে কাজের

আসল ছবি থাকলে কাস্টমারের ভরসা অনেক বেড়ে যায়। কী কী ছবি দেবেন:

  • বাইরে থেকে দোকান — বোর্ড সমেত, যাতে এসে চিনতে পারেন।
  • ভেতরের ছবি — কাউন্টার, তাক, বসার জায়গা।
  • মাল বা কাজের ছবি — আপনার সেরা জিনিসগুলো।
  • স্টাফের ছবি — হাসিমুখে, কাজের মধ্যে।
  • লোগো আর কভার ছবি।

ভালো আলোয় তুলুন, মোবাইল সোজা ধরে। ঝাপসা বা অন্ধকার ছবির চেয়ে ছবি না দেওয়াই ভালো। নতুন কাজ হলে নতুন ছবি দিন — নিয়মিত আপডেট হওয়া প্রোফাইল দেখলে মনে হয় দোকানটা চালু।

ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: অনেকে প্রোফাইল খুলে কয়েকটা ছবি দিয়েই ভুলে যান। আমার দেখা সবচেয়ে কাজের প্রোফাইলগুলোর মালিক মাসে অন্তত একবার নতুন ছবি দেন আর প্রতিটা রিভিউর উত্তর দেন। সময় বেশি লাগে না, কিন্তু প্রোফাইলটা জ্যান্ত থাকে।

ধাপ ৭: রিভিউ — নাম-ডাকের সবচেয়ে বড় ভিত

রিভিউ দুটো কাজ করে: নতুন কাস্টমারকে ভরসা দেয়, আর Google-কে জানায় যে আপনার ব্যবসা সত্যিই চলে আর লোকে পছন্দ করে।

রিভিউ চাইবেন কিভাবে

  • কাজ শেষে খুশি কাস্টমারকে মুখে বলুন — বেশিরভাগ লোক খুশি মনেই লিখে দেন, শুধু কেউ মনে করায় না।
  • প্রোফাইল থেকে রিভিউ লেখার লিংক কপি করে WhatsApp-এ পাঠিয়ে দিন।
  • কাউন্টারে একটা QR কোড রাখুন, যেটা স্ক্যান করলেই রিভিউ লেখার পেজ খুলে যায়।

Google-এর হেল্প পেজে "Tips to get more reviews" অংশেও এই কথাগুলোই বলা আছে।

যা কখনও করবেন না

  • টাকা, ছাড় বা গিফটের বদলে রিভিউ চাওয়া।
  • নিজে বা স্টাফদের দিয়ে ভুয়ো রিভিউ লেখানো।
  • টাকা দিয়ে রিভিউ কেনা।

এগুলো Google-এর নিয়মের বিরুদ্ধে। ধরা পড়লে রিভিউ মুছে যায়, প্রোফাইলে সতর্কবার্তা দেখাতে পারে, এমনকি প্রোফাইল বন্ধও হতে পারে। একটা সত্যিকারের চার-তারা রিভিউ দশটা ভুয়ো পাঁচ-তারার চেয়ে অনেক বেশি দামি।

প্রতিটা রিভিউর উত্তর দিন

ভালো রিভিউতে নাম ধরে ধন্যবাদ দিন। খারাপ রিভিউতে রাগ না করে ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিন — প্রবলেমটা মেনে নিন, কী করবেন বলুন। মনে রাখবেন, উত্তরটা শুধু ওই একজনের জন্য নয় — পরে যাঁরা পড়বেন, সবার জন্য।

ধাপ ৮: নিয়মিত আপডেট রাখুন

প্রোফাইল একবার বানিয়ে ফেলে রাখার জিনিস নয়। মাসে একবার এই কাজগুলো করুন:

  • নতুন ছবি দিন।
  • অফার, নতুন মাল বা কোনো খবর থাকলে "Update" পোস্ট দিন।
  • খোলার সময় ঠিক আছে কিনা দেখুন, বিশেষ করে পুজোর আগে।
  • নতুন রিভিউর উত্তর দিন।
  • Google বা কোনো কাস্টমার ইনফো চেঞ্জ করার সাজেশন দিয়েছে কিনা দেখুন — ভুল হলে বাতিল করুন।

প্রোফাইলের রিপোর্ট দেখুন

প্রোফাইলে "Performance" অংশে দেখা যায় কতজন আপনার প্রোফাইল দেখেছেন, কতজন ফোন করেছেন, কতজন রাস্তা খুঁজেছেন আর কতজন ওয়েবসাইটে গেছেন। মাসে মাসে এই সংখ্যাগুলো মিলিয়ে দেখুন — বুঝবেন কোন কাজে রেজাল্ট আসছে।

একাধিক ব্রাঞ্চ থাকলে

দুটো বা তার বেশি দোকান, চেম্বার বা অফিস থাকলে প্রতিটা ঠিকানার জন্য আলাদা প্রোফাইল খুলুন। প্রতিটায় সেই ব্রাঞ্চের নিজের ঠিকানা, ফোন আর খোলার সময় দিন। নাম একই থাকবে, কারণ ব্যবসা একই।

যা করবেন না: এক ব্রাঞ্চের প্রোফাইলে সব ব্রাঞ্চের ঠিকানা লিখে দেওয়া, বা যেখানে আসলে কোনো অফিস নেই সেখানে প্রোফাইল খোলা। ভাড়া করা ঠিকানা বা শুধু চিঠি আসার ঠিকানায় প্রোফাইল খোলা Google-এর নিয়মের বিরুদ্ধে।

ওয়েবসাইটে প্রতিটা ব্রাঞ্চের জন্য আলাদা একটা ছোট পেজ রাখলে আরও ভালো — সেই ব্রাঞ্চের ঠিকানা, ম্যাপ, সময় আর ছবি। প্রতিটা প্রোফাইল থেকে নিজের ব্রাঞ্চের পেজে লিংক দিন।

প্রোফাইলে কাকে কাকে ঢুকতে দেবেন

প্রোফাইলে কয়েক রকম অ্যাক্সেস দেওয়া যায়:

  • Primary owner (মেন মালিক) — সব ক্ষমতা, প্রোফাইল ডিলিট করার ক্ষমতাও। এটা সব সময় আপনার নিজের Gmail-এ থাকবে।
  • Owner — প্রায় সব ক্ষমতা। খুব বিশ্বাসী কাউকে ছাড়া দেবেন না।
  • Manager — ডিটেলস চেঞ্জ করা, ছবি দেওয়া, রিভিউর উত্তর দেওয়া যায়। স্টাফ বা যিনি আপনার হয়ে প্রোফাইল দেখেন, তাঁকে এটাই দিন।

কেউ কাজ ছেড়ে দিলে সেদিনই তাঁর অ্যাক্সেস সরিয়ে দিন। আর বছরে একবার "People and access" অংশে দেখে নিন — অচেনা কেউ আছে কিনা।

প্রোফাইল সাসপেন্ড হলে কী করবেন

মাঝে মাঝে Google কোনো প্রোফাইল কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেয় — সাধারণত নিয়ম ভাঙার সন্দেহে। যেমন নামে বাড়তি শব্দ, ভুল ঠিকানা, বা একই ব্যবসার একাধিক প্রোফাইল। হঠাৎ প্রোফাইল ম্যাপ থেকে উধাও হলে বা সতর্কবার্তা দেখালে:

  1. ঘাবড়ে গিয়ে নতুন প্রোফাইল খুলবেন না — তাতে ঝামেলা আরও বাড়ে।
  2. প্রোফাইলে ঢুকে দেখুন Google কী কারণ দেখাচ্ছে।
  3. Google-এর গাইডলাইন মিলিয়ে নিজের ভুলটা খুঁজে ঠিক করুন — নাম, ঠিকানা, ক্যাটাগরি।
  4. তারপর প্রোফাইল থেকেই আপিল করুন। সঙ্গে প্রুফ দিন — দোকানের বোর্ডের ছবি, ট্রেড লাইসেন্স বা GST-এর কাগজ, কারেন্টের বিল।
  5. আপিলের উত্তর আসতে কিছুদিন লাগতে পারে। ততদিন প্রোফাইলে আর কিছু চেঞ্জ করবেন না।

সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই শুরু থেকেই নিয়ম মেনে চলা — তাহলে এই ঝামেলাতেই পড়তে হয় না।

যে ভুলগুলো প্রোফাইলের ক্ষতি করে

ভুলকেন ক্ষতিকী করবেন
নামের সঙ্গে বাড়তি শব্দ ("Best Sweet Shop Haldia")Google-এর নিয়ম ভাঙে, সাসপেন্ড হতে পারেবোর্ডে যা লেখা, হুবহু সেটাই
একই দোকানের দুটো প্রোফাইলরিভিউ ভাগ হয়, Google গুলিয়ে ফেলেএকটা রেখে অন্যটা মুছতে বা জুড়তে Google-কে জানান
ভুল বা পুরনো ফোন নম্বরকাস্টমার যোগাযোগই করতে পারেন নামাসে একবার নম্বর মিলিয়ে নিন
ম্যাপে ভুল জায়গায় পিনকাস্টমার অন্য জায়গায় পৌঁছে যানপিন টেনে ঠিক দোকানের উপর বসান
প্রোফাইল অন্যের অ্যাকাউন্টেস্টাফ বা ডেভেলপার চলে গেলে প্রোফাইল হাতছাড়ানিজের Gmail-কে Owner রাখুন, বাকিদের শুধু Manager
রিভিউর উত্তর না দেওয়ামনে হয় মালিক খেয়াল রাখেন নাসপ্তাহে একবার সব রিভিউর উত্তর

Google-এর ব্যবসার তথ্য দেওয়ার গাইডলাইন একবার পড়ে নিলে এই ভুলগুলো সহজেই এড়ানো যায়।

প্রোফাইল আর ওয়েবসাইট — একসঙ্গে কেন

গুগল বিজনেস প্রোফাইল কাস্টমারকে আপনার দরজা পর্যন্ত নিয়ে আসে। কিন্তু প্রোফাইলে জায়গা কম — সব সার্ভিসের ডিটেলস, কাজের নমুনা, কমন প্রশ্নের উত্তর রাখা যায় না। সেখানেই ওয়েবসাইট লাগে।

দুটো একসঙ্গে থাকলে:

  • প্রোফাইল থেকে কাস্টমার ওয়েবসাইটে গিয়ে বাকিটা দেখে নেন।
  • সাইটের ঠিকানা আর ফোন নম্বর প্রোফাইলের সঙ্গে মিলে যায়, Google-এর ভরসা বাড়ে।
  • সাইট থেকে Google Maps-এর লিংক দিয়ে কাস্টমারকে সোজা রাস্তা দেখানো যায়।

আলাদা করে ওয়েবসাইট কেন লাগে, সেটা ডিটেলসে লিখেছি ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট কেন দরকার লেখায়।

৩০ দিনের সহজ প্ল্যান

সব একসঙ্গে করতে হবে না। এভাবে ভাগ করে নিন:

সপ্তাহকাজ
প্রথম সপ্তাহপ্রোফাইল খুঁজুন বা খুলুন, ঠিক ক্যাটাগরি দিন, ভেরিফিকেশনের ভিডিও জমা দিন
দ্বিতীয় সপ্তাহসব ইনফো দিন — সময়, ডিটেলস, সার্ভিস, অ্যাট্রিবিউট; ভালো আলোয় দশটা ছবি
তৃতীয় সপ্তাহপুরনো খুশি কাস্টমারদের WhatsApp-এ রিভিউর লিংক পাঠান; কাউন্টারে QR কোড রাখুন
চতুর্থ সপ্তাহপ্রথম আপডেট পোস্ট দিন; সব রিভিউর উত্তর দিন; ওয়েবসাইট আর ফেসবুকে একই ইনফো আছে কিনা মিলিয়ে নিন

তারপর থেকে মাসে এক ঘণ্টা — নতুন ছবি, রিভিউর উত্তর আর ডিটেলস মিলিয়ে দেখা।

শেষ কথা

গুগল বিজনেস প্রোফাইল সম্ভবত আপনার ব্যবসার সবচেয়ে কম ঝামেলার, সবচেয়ে বেশি কাজের অনলাইন জিনিস। কাজটা কঠিন নয় — ঠিক ইনফো, আসল ছবি, সত্যিকারের রিভিউ আর নিয়মিত একটু যত্ন।

প্রোফাইল খোলা, ভেরিফিকেশন আটকে থাকা বা ম্যাপে না দেখানো নিয়ে প্রবলেম হলে আমার সার্ভিস দেখতে পারেন, অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন — প্রোফাইলের লিংক WhatsApp-এ পাঠালে দেখে বলে দেব কোথায় আটকাচ্ছে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

Google Business Profile খুলতে কি টাকা লাগে?

না, Google Business Profile খোলা আর চালানো পুরোপুরি ফ্রি। কেউ যদি চার্জ নিয়ে 'Google-এ দোকান তুলে দেব' বলেন, উনি আসলে নিজের সময় আর কাজের চার্জ নিচ্ছেন — Google নিজে কিছু নেয় না। শুধু খেয়াল রাখুন, প্রোফাইলের মালিকানা যেন সব সময় আপনার নিজের Google অ্যাকাউন্টে থাকে।

দোকান নেই, বাড়ি থেকে কাজ করি — প্রোফাইল খোলা যায়?

হ্যাঁ, যায়। প্লাম্বার, টিউটর, ক্যাটারার, মেকআপ আর্টিস্টের মতো যাঁরা কাস্টমারের বাড়ি গিয়ে কাজ করেন, তাঁরা 'সার্ভিস এরিয়া' দিয়ে প্রোফাইল খুলতে পারেন। তখন বাড়ির ঠিকানা লুকিয়ে রেখে শুধু কোন কোন এলাকায় কাজ করেন, সেটা দেখানো যায়।

ভেরিফিকেশন হতে কতদিন লাগে?

কোন উপায়ে ভেরিফাই হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে। Google এখন বেশিরভাগ সময় ভিডিও ভেরিফিকেশন চায়, কখনও ফোন বা ইমেলেও হয়। ভিডিও জমা দেওয়ার পর চেক হতে কয়েক দিন লাগতে পারে। ভিডিওতে দোকানের বোর্ড, ভেতরের মাল আর সামনের রাস্তা পরিষ্কার দেখালে ঝামেলা কম হয়।

প্রোফাইলের নামের সঙ্গে এলাকার নাম বা 'best' জুড়ে দিলে কি ম্যাপে উপরে আসব?

না, এটা ভুলেও করবেন না। Google-এর নিয়মে প্রোফাইলের নাম হবে হুবহু আপনার আসল দোকানের নাম — যেটা বোর্ডে লেখা। বাড়তি শব্দ জুড়লে প্রোফাইল সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে।

ওয়েবসাইট না থাকলেও কি প্রোফাইল কাজ করে?

করে, তবে অর্ধেক। প্রোফাইলে জায়গা কম। কাস্টমার পুরোটা জানতে চাইলে ওয়েবসাইটের লিংকে যান। দুটো একসঙ্গে থাকলে Google-ও আপনার ব্যবসা সম্পর্কে বেশি জানতে পারে।

সর্বশেষ আপডেট:

#Google #Google Maps #রিভিউ #লোকাল ব্যবসা

WhatsApp