এসইও অডিট কী? নিজের ওয়েবসাইট কিভাবে চেক করবেন, ধাপে ধাপে

এসইও অডিট (SEO audit) মানে আপনার ওয়েবসাইটের একটা পুরো চেকআপ — Google আপনার সাইট ঠিকমতো খুঁজে পাচ্ছে কিনা, বুঝতে পারছে কিনা, আর কাস্টমার সাইটে এসে খুশি হচ্ছেন কিনা। এর বেশিরভাগটাই আপনি নিজে, ফ্রি টুল দিয়ে করতে পারেন। শুধু জানতে হবে কোথায় দেখবেন আর কোনটা আগে।
যাঁর সাইট আছে কিন্তু Google-এ কেমন করছে কোনো ধারণা নেই, এই লেখাটা তাঁর জন্য। নিচে দশটা স্টেপ দিলাম — পর পর করে গেলে এক-দুই সন্ধ্যাতেই নিজের সাইটের একটা পরিষ্কার ছবি পেয়ে যাবেন।
এসইও অডিটে আসলে কী কী দেখা হয়
সোজা কথায় চারটে ভাগ:
| ভাগ | প্রশ্নটা কী | কোথায় দেখবেন |
|---|---|---|
| টেকনিক্যাল | Google কি সাইটের পেজগুলো খুঁজে পাচ্ছে আর খুলতে পারছে? | Google Search Console |
| স্পিড আর মোবাইল | মোবাইলে সাইট তাড়াতাড়ি, ঠিকমতো খুলছে? | PageSpeed Insights, নিজের ফোন |
| লেখা | প্রতিটা পেজ কি পরিষ্কার বলছে কী, কোথায়? | নিজের সাইট, Google রেজাল্ট |
| লোকাল | Google Maps আর অন্য জায়গায় আপনার ডিটেলস কি ঠিক আর এক? | Google Business Profile, ডিরেক্টরি |
এর সঙ্গে এখন একটা নতুন প্রশ্ন যোগ হয়েছে — Google-এর AI উত্তরে বা অন্য AI টুলে আপনার ব্যবসার নাম আসছে কিনা। সেটাও নিচে বলছি।
নিজে এসইও অডিট করার ১০টা স্টেপ
ধাপ ১: Google-এ নিজের সাইট খুঁজুন
Google-এ লিখুন site:আপনারডোমেইন.com (নিজের ডোমেইন বসিয়ে)। মোটামুটি দেখাবে Google আপনার সাইটের কোন কোন পেজ জানে। কোনো পেজই না এলে, বা দরকারি সার্ভিস পেজ না এলে — প্রথম প্রবলেম পেয়ে গেলেন।
তারপর নিজের ব্যবসার নাম আর এলাকা লিখে সার্চ করুন। আপনার সাইট আর Google প্রোফাইল দুটোই আসছে তো? এবার নামটা বাদ দিয়ে শুধু কাজ আর এলাকা লিখুন — যেমন "চন্দননগর জেরক্স দোকান"। প্রথম পেজে কারা আসছেন, খাতায় লিখে রাখুন। পরে কম্পেয়ার করতে কাজে লাগবে।
ধাপ ২: Google Search Console চালু করুন
এটা Google-এর ফ্রি টুল, আর অডিটের সবচেয়ে ভরসার জায়গা। Search Console কী আর কেন, Google নিজেই বুঝিয়েছে। কিভাবে সেটআপ করবেন আর কোন রিপোর্ট কী বলে, সহজ করে লিখেছি Google Search Console-এর বেসিক গাইডে।
ধাপ ৩: কোন পেজ ইনডেক্স হয়নি, দেখুন
Search Console-এর "Pages" রিপোর্টে দেখায় কোন পেজ Google-এ আছে আর কোনটা নেই, আর কেন নেই। সব পেজ থাকতে হবে এমন নয় — কিন্তু আপনার সার্ভিস, কন্ট্যাক্ট আর হোম পেজ বাদ গেলে সেটা ঠিক করতেই হবে। কোনো একটা পেজ নিয়ে সন্দেহ হলে উপরের সার্চ বক্সে সেই পেজের লিংক দিয়ে URL Inspection চালান।
ধাপ ৪: কোন সার্চে আসছেন, দেখুন
"Performance" রিপোর্টে দেখবেন লোকে কী লিখে সার্চ করে আপনার সাইট পাচ্ছেন, কতবার দেখানো হচ্ছে, কতজন ক্লিক করছেন। এখানে প্রায়ই দারুণ জিনিস ধরা পড়ে — যেমন ধরুন একটা সার্ভিসের নামে অনেকবার দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সেটার কোনো আলাদা পেজই নেই।
ধাপ ৫: স্পিড চেক করুন
Google-এর ফ্রি টুল PageSpeed Insights (pagespeed.web.dev)-এ সাইটের লিংক দিন, মোবাইলের রেজাল্ট দেখুন। স্কোর নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না — নিচের সাজেশনগুলো দেখুন। সবচেয়ে কমন প্রবলেম: বিরাট সাইজের ছবি, অনেক বেশি প্লাগিন, আর স্লো হোস্টিং।
ধাপ ৬: মোবাইলে নিজে চালিয়ে দেখুন
Wi-Fi বন্ধ করে, মোবাইল ডেটায় নিজের সাইট খুলুন। একজন নতুন কাস্টমার হয়ে ভাবুন:
- ফোন নম্বর আর WhatsApp বাটন কি সহজে চোখে পড়ছে?
- লেখা কি জুম না করে পড়া যাচ্ছে?
- বাটনগুলো কি আঙুলে টিপতে সুবিধে, নাকি একটার উপর আরেকটা?
- কোনো পপ-আপ কি পুরো স্ক্রিন ঢেকে দিচ্ছে?
ধাপ ৭: প্রতিটা পেজের টাইটেল আর লেখা দেখুন
Google রেজাল্টে আপনার পেজের যে নীল লেখা দেখায়, সেটা সাধারণত পেজের টাইটেল। প্রতিটা পেজের টাইটেল আলাদা হওয়া উচিত, আর তাতে কী আর কোথায় — দুটোই থাকা ভালো। যেমন "হোম" নয়, বরং "বর্ধমানের মিষ্টির দোকান | দোকানের নাম"।
আর দেখুন — প্রতিটা মেন সার্ভিসের আলাদা পেজ আছে কি? এক পেজে দশটা সার্ভিসের নাম লিখে দিলে Google কোনোটার জন্যই আপনাকে ঠিকমতো দেখাতে পারে না।
ধাপ ৮: ভাঙা লিংক আর পুরনো ইনফো খুঁজুন
সাইটের সব মেনু, বাটন আর লিংকে একবার করে টিপুন। কোনোটা কি "Page not found"-এ যাচ্ছে? পুরনো ফোন নম্বর, বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রাঞ্চ, পুরনো অফার — এগুলো এখনও কোথাও লেখা আছে কি?
সঙ্গে দেখুন ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে তালার আইকন আছে কিনা — মানে সাইট HTTPS-এ চলছে। "Not secure" দেখালে আগে সেটা ঠিক করুন।
ধাপ ৯: লোকাল জিনিসগুলো মিলিয়ে নিন
লোকাল ব্যবসার জন্য এই স্টেপটাই সবচেয়ে বেশি কাজ দেয়:
- Google Business Profile-এ নাম, ঠিকানা, ফোন, সময় আর ক্যাটাগরি ঠিক আছে তো?
- সাইটে, Google-এ, ফেসবুকে, জাস্টডায়ালে — নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর হুবহু এক তো?
- নতুন রিভিউ আসছে? আর সেগুলোর রিপ্লাই দেওয়া হচ্ছে?
- সাইটে কি কোন কোন এলাকায় কাজ করেন, সেটা লেখা আছে?
লোকে "কাছাকাছি" লিখে খুঁজলে Google কী দেখে, সেটা ডিটেলে বলেছি নিয়ার মি সার্চের লেখায়।
ধাপ ১০: AI সার্চে আপনার নাম আসছে কিনা দেখুন
Google-এ আপনার ব্যবসার মতো প্রশ্ন সার্চ করুন — যেমন "শিলিগুড়িতে ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার কে?" উপরে AI-এর লেখা উত্তর এলে দেখুন, সেখানে আপনার নাম বা আপনার মতো কারও নাম আসছে কিনা, আর কোন কোন সাইট থেকে ইনফো নিচ্ছে। এটা পুরোপুরি মাপার কোনো পারফেক্ট উপায় এখনও নেই, তবে মাঝে মাঝে দেখে রাখলে বোঝা যায় হাওয়া কোন দিকে।
অডিটের পর কী আগে ঠিক করবেন
সব একসঙ্গে করতে যাবেন না। এই অর্ডারে এগোন:
- যেটা Google-কে আটকাচ্ছে — পেজ ইনডেক্স না হওয়া, HTTPS না থাকা, সাইট বারবার বন্ধ হওয়া।
- যেটা কাস্টমারকে আটকাচ্ছে — মোবাইলে খারাপ দেখানো, স্লো খোলা, ফোন নম্বর খুঁজে না পাওয়া।
- লোকাল ডিটেলস — Google প্রোফাইল আর সব জায়গায় একই ডিটেলস।
- লেখা — প্রতিটা সার্ভিসের আলাদা, পরিষ্কার পেজ আর ঠিকঠাক টাইটেল।
- বাকি ছোটখাটো জিনিস — ধীরে ধীরে, মাসে কয়েকটা করে।
ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: অনেকে অডিট টুলের স্কোর একশোয় একশো করার পেছনে সপ্তাহের পর সপ্তাহ দেন। আমার মতে সেটা বেশিরভাগ সময় দরকার নেই। কাস্টমার স্কোর দেখেন না — দেখেন আপনার সাইট তাড়াতাড়ি খুলল কিনা আর উনি যা খুঁজছিলেন পেলেন কিনা। আগে এই দুটো ঠিক করুন, স্কোর নিয়ে পরে ভাববেন।
কখন টুল বা কারও সাহায্য নেবেন
উপরের দশটা স্টেপ নিজে করলেই বেশিরভাগ বড় প্রবলেম ধরা পড়ে। তবে সাইটে অনেক পেজ থাকলে, বা কম্পিটিটরদের সঙ্গে কম্পেয়ার করতে চাইলে, আলাদা SEO টুল কাজে আসে। এগুলো পুরো সাইট একসঙ্গে স্ক্যান করে, কোন কিওয়ার্ডে কোথায় আছেন দেখায়, কারা আপনার সাইটে লিংক দিয়েছে বলে দেয়।
এমন টুল অনেক আছে। একটা হল DevsKing.com। এখানে সাইট অডিট, কিওয়ার্ড রিসার্চ, র্যাঙ্ক ট্র্যাকিং, ব্যাকলিংক আর AI-তে আপনার নাম আসছে কিনা, সেই চেক — সব এক জায়গায় পাওয়া যায়। তবে যে টুলই নিন, আসল কাজ একই থাকবে: রিপোর্ট পড়া আর প্রবলেমগুলো একটা একটা করে ফিক্স করা।
শেষ কথা
এসইও অডিট শুনতে কঠিন লাগে, কিন্তু আসলে এটা নিজের দোকান একবার কাস্টমারের চোখে ঘুরে দেখার মতো। Search Console, PageSpeed আর নিজের মোবাইল — এই তিনটে দিয়েই শুরু করা যায়। আর লোকাল SEO-র পুরো ছবিটা একসঙ্গে বুঝতে চাইলে লোকাল SEO-র পুরো গাইড পড়ে নিন।
আপনার এলাকায় Google-এ এগিয়ে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন বা WhatsApp-এ কথা বলুন — আপনার সাইটের লিংক পাঠালেই হবে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
এসইও অডিট কত দিন পর পর করা উচিত?
ছোটখাটো চেক মাসে একবার করলেই ভালো — Search Console-এ এরর আছে কিনা, সাইট মোবাইলে ঠিক খুলছে কিনা। পুরো অডিট বছরে একবার, আর সাইট নতুন করে বানালে, ডোমেইন চেঞ্জ করলে বা হঠাৎ ভিজিটর অনেক কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে করুন।
এসইও অডিট করলেই কি Google-এ উপরে উঠে যাব?
না। অডিট শুধু বলে দেয় কোথায় প্রবলেম। সেই প্রবলেমগুলো ঠিক করলে তবেই রেজাল্ট ভালো হয়, আর তাতেও সময় লাগে। অডিট অনেকটা ডাক্তারের চেকআপের মতো — রিপোর্ট হাতে পেলেই শরীর ভালো হয় না, কাজটা তারপর।
ফ্রি টুল দিয়ে কি SEO audit করা যায়?
হ্যাঁ, অনেকটাই যায়। Google Search Console আর PageSpeed Insights দুটোই ফ্রি, আর সরাসরি Google-এর ডেটা দেয়। এর সঙ্গে মোবাইলে নিজে সাইট খুলে দেখা আর Google-এ নিজের ব্যবসার নাম সার্চ করা — এতেই বেশিরভাগ বড় প্রবলেম ধরা পড়ে।
অডিট রিপোর্টে শত শত প্রবলেম দেখাচ্ছে, ঘাবড়ে যাব কি?
না। অনেক টুল ছোটখাটো জিনিসকেও প্রবলেম বলে দেখায়। আগে দেখুন সাইট Google-এ ইনডেক্স হচ্ছে কিনা, মোবাইলে ঠিক খুলছে কিনা, আর প্রতিটা সার্ভিসের আলাদা পরিষ্কার পেজ আছে কিনা। বড় এই কয়েকটা ঠিক করলে বাকিগুলো ধীরে ধীরে করা যায়।
এসইও অডিট আর লোকাল SEO কি আলাদা জিনিস?
অডিট হল চেকআপ, আর লোকাল SEO হল আপনার এলাকার সার্চে সামনে আসার পুরো কাজটা। লোকাল ব্যবসার অডিটে তাই সাইটের সঙ্গে Google Business Profile, রিভিউ আর সব জায়গায় একই নাম-ঠিকানা-ফোন আছে কিনা — এগুলোও দেখা হয়। অডিট বলে কোথায় ফাঁক, লোকাল SEO-র কাজ সেই ফাঁক ভরায়।
সর্বশেষ আপডেট: