বিদেশে Google Business Profile: UK, USA, দুবাইয়ে দোকান ম্যাপে তোলা

লিখেছেন সন্দীপন দাস · ৯ মিনিটে পড়ুন

বিদেশে Google Business Profile — মোবাইলে Google Maps-এ বিদেশের শহরে দোকানের লোকেশন পিন

বিদেশে Google Business Profile খোলার মূল নিয়ম সব দেশে এক: আসল ঠিকানা, সাইনবোর্ডে যে নাম আছে সেই নাম, লোকাল ফোন নম্বর, আর Google যে উপায় দেখায় সেই উপায়ে ভেরিফিকেশন। UK, USA, দুবাই বা কানাডা — যেখানেই দোকান হোক, প্রোফাইল ঠিকঠাক থাকলে লোকাল কাস্টমার Google Maps-এ আপনাকে খুঁজে পান। Google Business Profile UK হোক বা Google Maps listing USA, আটকে যাওয়ার জায়গাগুলো প্রায় একই — নিচে সেগুলোই এক এক করে বলছি।

প্রোফাইল খোলার পুরো স্টেপ, ক্যাটাগরি, ছবি আর রিভিউ নিয়ে ডিটেলসে লিখেছি গুগল বিজনেস প্রোফাইলের পুরো গাইডে। এই লেখাটা শুধু সেই জিনিসগুলো নিয়ে, যেগুলো বিদেশে দোকান থাকলে আলাদা বা বেশি জরুরি।

বিদেশে Google Business Profile কেন আগে লাগে

ধরুন, লন্ডনে আপনার একটা মিষ্টির দোকান, বা নিউ জার্সিতে একটা মুদির দোকান। নতুন কেউ পাড়ায় এসে মোবাইলে লেখেন "Indian sweets near me" বা "grocery store open now"। প্রথমেই যেটা দেখায়, সেটা ম্যাপ — তিন-চারটে দোকান, তাদের রিভিউ, খোলার সময়, আর "Directions" বাটন।

আপনার প্রোফাইল না থাকলে, বা থাকলেও ভুল ইনফো থাকলে, সেই কাস্টমার পাশের দোকানে চলে যান। বাঙালি কমিউনিটি হয়তো নাম শুনে আপনাকে খুঁজে নেবেন। কিন্তু লোকাল কাস্টমার নাম জানেন না — তাঁরা ম্যাপ দেখেই ঠিক করেন।

তাই বিদেশে নতুন দোকান খুললে ওয়েবসাইটের আগে বা সঙ্গে সঙ্গে প্রোফাইলটা করে ফেলুন। সাইট কেমন হবে, কোন ভাষায় হবে, সেটা আলাদা করে বলেছি বিদেশে বাঙালির ব্যবসার গাইডে।

প্রোফাইল খোলার আগে: চারটে জিনিস ঠিক আছে তো?

বিদেশে সবচেয়ে বেশি প্রোফাইল আটকায় শুরুতেই। কারণ নিয়মটা না জেনে ভুল ইনফো দিয়ে খোলা হয়। এই চারটে আগে মিলিয়ে নিন:

  1. সত্যিকারের দোকান বা অফিস — যেখানে খোলার সময়ে আপনার লোক থাকেন আর কাস্টমার আসতে পারেন। শুধু চিঠি নেওয়ার ঠিকানা, P.O. Box বা ভার্চুয়াল অফিস Google মানে না।
  2. পাকা সাইনবোর্ড — দোকানের নাম লেখা বোর্ড, দেওয়ালে বা জানালায়। ঠিকানা দেখাতে চাইলে Google এটা চায়, আর ভিডিও ভেরিফিকেশনেও এটা দেখাতে হয়।
  3. লোকাল ফোন নম্বর — দোকানের নিজের নম্বর, দেশের কোড সহ। কল সেন্টার বা অন্য কারও নম্বর নয়।
  4. একটা Google অ্যাকাউন্ট, মালিকের নিজের নামে — কর্মচারী বা ডেভেলপারের অ্যাকাউন্টে নয়।

কো-ওয়ার্কিং স্পেসে অফিস হলে নিয়মটা একটু কড়া। সেখানে আপনার নিজের সাইনবোর্ড থাকতে হবে, খোলার সময়ে আপনার নিজের স্টাফ থাকতে হবে, আর কাস্টমার এসে দেখা করতে পারবেন — তবেই চলে। Google এগুলো পরিষ্কার লিখে রেখেছে তাদের ব্যবসা দেখানোর গাইডলাইনে।

নাম, ঠিকানা আর ফোন: দেশ অনুযায়ী কী লিখবেন

এই তিনটে জিনিসেই বিদেশের প্রোফাইলে সবচেয়ে বেশি ভুল দেখি।

দোকানের নাম

যে নাম সাইনবোর্ডে, বিলে আর কার্ডে আছে — ঠিক সেটাই লিখুন। দুটো ভুল বিদেশে খুব কমন:

  • নামের সঙ্গে কিওয়ার্ড জোড়া — "Ma Tara Sweets – Best Indian Sweets London" লিখলে প্রোফাইল সাসপেন্ড হতে পারে। নাম শুধু "Ma Tara Sweets"।
  • ইংলিশ আর বাংলা দুটোতে এক নাম — সাইনবোর্ডে দুটো থাকলেও প্রোফাইলে একটাই দিন। Google-এর নিয়মে একই নাম দুটো লিপিতে পাশাপাশি লেখা চলে না।

ঠিকানা

ঠিকানা লিখুন সেই দেশের ফরম্যাটে, আর ম্যাপের পিনটা টেনে দোকানের দরজার উপর বসান।

দেশঠিকানায় যা খেয়াল রাখবেন
UKপোস্টকোড পুরোটা আর ঠিকঠাক লিখুন — একটা অক্ষর ভুল হলেই পিন অন্য রাস্তায় চলে যেতে পারে।
USAরাস্তা, শহর, স্টেট আর ZIP কোড। সুইট বা ইউনিট নম্বর থাকলে "Address line 2"-তে।
দুবাই ও UAEএলাকা, রাস্তা আর বিল্ডিংয়ের নাম পরিষ্কার লিখুন। পিনটা ঠিক জায়গায় আছে কিনা নিজে ম্যাপে খুলে দেখুন।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়াপোস্টাল কোড আর প্রভিন্স বা স্টেট সহ, সেখানকার নিয়মে।

যেটা সব দেশেই এক — ঠিকানার লাইনে কিওয়ার্ড বা ওয়েবসাইটের লিংক লিখবেন না। শুধু আসল ঠিকানা।

ফোন নম্বর

লোকাল নম্বর দিন — +44, +1, +971, যে দেশের যা কোড। Google নিজেই বলে, কল সেন্টারের বদলে দোকানের লোকাল নম্বর দিতে, আর নম্বরটা যেন আপনার নিজের হাতে থাকে। ভারত বা বাংলাদেশের নম্বর দিলে লোকাল কাস্টমার ফোন করতে চান না, আর ফোনে ভেরিফিকেশনের কোডও সেই নম্বরেই আসে।

GBP verification abroad: কোন দেশে কোন উপায়

এটাই সবচেয়ে কমন প্রশ্ন — "UK-তে কি পোস্টকার্ড আসে? দুবাইয়ে ভিডিও লাগে?" সোজা উত্তর: Google কোনো দেশের জন্য পাকা লিস্ট দেয় না। কোন উপায়ে ভেরিফাই হবে, Google ঠিক করে আপনার ব্যবসার ধরন, অঞ্চল, পাবলিক ইনফো আর খোলার সময় দেখে। একই শহরে দুটো দোকানের দুরকম অপশন আসতে পারে। Google-এর ভেরিফিকেশন গাইডে এটা পরিষ্কার বলা আছে।

যে উপায়গুলো আসতে পারে:

  • ভিডিও রেকর্ডিং — অপশন এলে Google এটাই আগে নিতে বলে।
  • ফোন বা টেক্সট — দোকানের নম্বরে কোড আসে। অটোমেটিক মেনু (IVR) থাকলে কোড পৌঁছয় না, তাই সরাসরি ফোন ধরতে হবে।
  • ইমেইল — ভেরিফিকেশনের পেজে যে ইমেইল দেখায়, সেটা খুলতে পারলে।
  • লাইভ ভিডিও কল — Google-এর সাপোর্টের লোকের সঙ্গে, শুধু দোকানের খোলার সময়ে।
  • পোস্টকার্ড — দোকানের ঠিকানায় কোড আসে চিঠিতে।

কখনও একাধিক উপায়ে ভেরিফাই করতে হয়। সব শেষ হওয়ার পরে Google-এর রিভিউতে সাধারণত ৫ কাজের দিন পর্যন্ত লাগে।

ভিডিও ভেরিফিকেশনে কী দেখাবেন

বিদেশে এখন অনেকের কাছেই ভিডিওর অপশন আসে। এখানে প্রথমবারেই ঠিক করলে সময় বাঁচে। Google-এর নিয়ম অনুযায়ী দোকান থাকলে ভিডিওতে তিনটে জিনিস লাগে:

  1. জায়গাটা কোথায় — রাস্তার নামের বোর্ড, বিল্ডিং নম্বর, পাশের দোকান। যাতে বোঝা যায় দোকানটা ম্যাপের ঠিক সেই জায়গাতেই।
  2. দোকানটা সত্যিই আছে — সাইনবোর্ড, দোকানের সামনেটা। বোর্ডের নাম আর প্রোফাইলের নাম হুবহু এক হতে হবে।
  3. আপনি এটা চালান — যেটা শুধু দোকানের লোক খুলতে পারেন: ক্যাশ কাউন্টার, কিচেন, স্টোর রুম বা বিলিং মেশিন।

আর কয়েকটা কথা: ভিডিও অন্তত ৩০ সেকেন্ডের হতে হবে, এক টানা, কোনো এডিট ছাড়া। রেকর্ড করতে হয় মোবাইলে, প্রোফাইলের ভেতর থেকেই, লাইভ। আগে তুলে রাখা ভিডিও চলে না। অন্য লোকের মুখ, ব্যাংক বা ট্যাক্সের নম্বর, বা কারও ব্যক্তিগত ইনফো যেন ভিডিওতে না আসে। ভিডিওর পুরো নিয়মের লিংক ওপরের ভেরিফিকেশন গাইডেই পাবেন।

তাই রেকর্ড করার আগে একবার হেঁটে রাস্তাটা প্ল্যান করে নিন — মোড়ের বোর্ড থেকে শুরু, তারপর সাইনবোর্ড, তারপর ভেতরে কাউন্টার।

পোস্টকার্ড এলে

বেশিরভাগ কোড ১৪ দিনের মধ্যে আসে, আর কোড ৩০ দিন চলে। অপেক্ষার সময় দুটো কাজ একদম করবেন না — প্রোফাইলের নাম, ঠিকানা বা ক্যাটাগরি বদলানো, আর নতুন কোড চাওয়া। নতুন কোড চাইলে আগেরটা বাতিল হয়ে যায়, সময় আরও লাগে।

বাড়ি থেকে বা কাস্টমারের কাছে গিয়ে কাজ করলে

বিদেশে অনেক বাঙালি ব্যবসা দোকান ছাড়াই চলে — বাড়ির কিচেন থেকে ক্যাটারিং, বাড়ি গিয়ে টিউশন, ইলেকট্রিক বা রিপেয়ারের কাজ। এদের জন্য আছে সার্ভিস-এরিয়া প্রোফাইল।

  • বাড়ির ঠিকানা প্রোফাইল থেকে লুকিয়ে রাখুন — কাস্টমার যদি সেখানে না আসেন, Google ঠিকানা না দেখাতেই বলে।
  • কোন কোন শহর, পোস্টকোড বা এলাকায় কাজ করেন, সেটা দিন — সর্বোচ্চ ২০টা।
  • পুরো এলাকা মোটামুটি গাড়িতে ২ ঘণ্টার মধ্যে রাখুন, Google-এর নিয়ম এটাই।
  • দোকানও আছে আবার হোম ডেলিভারিও দেন? তখন ঠিকানা আর সার্ভিস এরিয়া দুটোই দিন।

সার্ভিস-এরিয়া ব্যবসার ভিডিও ভেরিফিকেশনে দেখাতে হয় পাড়ার রাস্তার বোর্ড বা চেনা জায়গা, কাজের যন্ত্রপাতি বা প্রোডাক্ট, আর এমন কিছু যাতে বোঝা যায় ব্যবসাটা আপনার — যেমন নিজের নামে বিল বা ব্যবসার কাগজ।

দেশে বসে বিদেশের প্রোফাইল সামলাবেন কিভাবে

অনেক সময় ছবিটা উল্টো — দোকান দুবাইয়ে ভাইয়ের, আর অনলাইনের দিকটা দেখেন কলকাতা বা ঢাকা থেকে আপনি। এটা পুরোপুরি চলে, শুধু কাজটা ভাগ করে নিতে হয়:

  • ভেরিফিকেশন দোকানের লোকের কাজ — ভিডিও বা লাইভ কলে দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, পোস্টকার্ডও আসে দোকানের ঠিকানায়।
  • কোড কাউকে দেবেন না — Google নিজেই বলে, ভেরিফিকেশন কোড কাউকে শেয়ার করবেন না, প্রোফাইল যাঁরা ম্যানেজ করেন তাঁদেরও না।
  • ভেরিফাই হওয়ার পরে ম্যানেজার যোগ করুন — মালিক থাকুন যাঁর ব্যবসা, বাকিরা ম্যানেজার। প্রত্যেকে নিজের Google অ্যাকাউন্ট দিয়ে ঢুকবেন।
  • দূর থেকে যা করা যায় — ছবি তোলা, খোলার সময় আর ছুটির দিনের আপডেট, রিভিউর উত্তর, পোস্ট আর ওয়েবসাইটের লিংক।

ডেভেলপার হিসেবে আমার কথা: ২০১৭ থেকে Fiverr আর Upwork-এ সারা পৃথিবীর ক্লায়েন্টের সঙ্গে রিমোটে কাজ করছি। বিদেশের প্রোফাইলের ব্যাপারে আমার সাজেশন একটাই — শুরুতেই মালিকানাটা ঠিক করুন। প্রোফাইল খুলুন ব্যবসার মালিকের নিজের Google অ্যাকাউন্টে, ভেরিফিকেশন নিজে করুন, আর ডেভেলপার বা দেশের পরিবারকে পরে ম্যানেজার হিসেবে যোগ করুন। পাসওয়ার্ড বা কোড WhatsApp-এ পাঠিয়ে কাজ চালালে একদিন না একদিন প্রবলেম হবেই।

ভেরিফাই হওয়ার পরে: প্রথম মাসের কাজ

প্রোফাইল চালু হলেই কাজ শেষ নয়। নতুন দেশে নতুন দোকানের প্রোফাইল প্রথম কয়েক সপ্তাহে যত গোছানো দেখায়, কাস্টমার তত ভরসা করেন।

  • ক্যাটাগরি ঠিক করুন — "Indian restaurant", "Bangladeshi restaurant", "Grocery store" — যেটা সবচেয়ে মেলে সেটাই মূল ক্যাটাগরি।
  • খোলার সময় লোকাল টাইমে — ঈদ, পুজো, ক্রিসমাস বা ব্যাংক হলিডেতে আলাদা সময় দিন।
  • আসল ছবি — দোকানের সামনেটা, ভেতরটা, খাবার বা প্রোডাক্ট। স্টক ছবি নয়।
  • ওয়েবসাইটের লিংক — প্রোফাইলে জায়গা কম, পুরো মেনু আর সার্ভিস থাকুক সাইটে।
  • রিভিউ চাওয়া শুরু করুন — রিভিউর লিংক WhatsApp বা ইমেইলে পাঠান। লোকাল কাস্টমার যাতে পড়তে পারেন, খুশি কাস্টমারকে ইংলিশে দু-লাইন লিখতে বলুন।
  • সব জায়গায় একই ইনফো — Apple Maps, Bing Places, Yelp আর Facebook-এ নাম, ঠিকানা আর ফোন হুবহু এক রাখুন।

এক নজরে চেকলিস্ট

  • দোকান সত্যিকারের, পাকা সাইনবোর্ড সহ — ভার্চুয়াল অফিস বা P.O. Box নয়
  • প্রোফাইলের নাম আর সাইনবোর্ডের নাম হুবহু এক, কিওয়ার্ড ছাড়া, একটাই ভাষায়
  • ঠিকানা দেশের ফরম্যাটে, পিন দোকানের দরজায়
  • লোকাল ফোন নম্বর, দেশের কোড সহ
  • বাড়ি থেকে কাজ হলে ঠিকানা লুকোনো, সার্ভিস এরিয়া দেওয়া
  • ভিডিও রেকর্ডের আগে রাস্তা, বোর্ড আর কাউন্টার — তিনটেই প্ল্যান করা
  • পোস্টকার্ডের অপেক্ষায় কোনো ইনফো না বদলানো
  • মালিক নিজে, বাকিরা ম্যানেজার — কোড কারও সঙ্গে শেয়ার নয়

যে ভুলগুলো বারবার দেখি

"আগে খুলে রাখি, সাইনবোর্ড পরে লাগাব।" — সাইনবোর্ড ছাড়া ভিডিও ভেরিফিকেশন পাস করা কঠিন। আর ঠিকানা দেখাতে চাইলে Google পাকা বোর্ডই চায়।

"বন্ধুর অফিসের ঠিকানাটা দিয়ে দিই।" — যেখানে আপনার দোকান নেই, সেই ঠিকানায় প্রোফাইল খুললে পরে সাসপেন্ড হওয়ার রিস্ক থাকে।

"অন্য দেশের এক বন্ধু পোস্টকার্ডে ভেরিফাই করেছেন, আমিও তাই করব।" — আপনার প্রোফাইলে কোন অপশন আসবে, সেটা আপনার ব্যবসা দেখে ঠিক হয়। যেটা দেখাচ্ছে, সেটা দিয়েই এগোন।

"কোড আসছে না, আবার চাই।" — নতুন কোড চাইলে পুরনোটা বাতিল হয়। ১৪ দিন অপেক্ষা করুন, তারপর ভাবুন।

শেষ কথা

বিদেশে Google Business Profile খোলা কঠিন কিছু নয় — কঠিন হয় নিয়ম না জেনে খুললে। আসল দোকান, সাইনবোর্ডের নাম, লোকাল নম্বর, দেশের ফরম্যাটে ঠিকানা আর প্ল্যান করা ভেরিফিকেশন — এই পাঁচটা ঠিক থাকলে বেশিরভাগ প্রোফাইল প্রথমবারেই চালু হয়ে যায়।

যে দেশেই থাকুন, WhatsApp-এ লিখুন — আপনার টাইম জোনে কল করে পুরো কাজ রিমোটে করে দিই। প্রোফাইল সাজানো, ছবি আর ক্যাটাগরি, ওয়েবসাইটের সঙ্গে জোড়া — সব দূর থেকেই হয়, শুধু ভেরিফিকেশনটা আপনি দোকান থেকে করবেন। কোন দেশে, কী ব্যবসা — এটুকু লিখে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

Google Business Profile UK বা USA-তে খুলতে কি সেই দেশের ফোন নম্বর লাগবে?

লোকাল নম্বর দেওয়াই ঠিক। Google-এর নিয়মে এমন নম্বর দিতে বলা হয় যেটা সরাসরি ওই দোকানেই যায় আর আপনার নিজের হাতে থাকে। দেশের কোড সহ লিখুন (+44, +1, +971)। ভারত বা বাংলাদেশের নম্বর দিলে লোকাল কাস্টমার ফোন করতে দ্বিধা করেন, আর ফোন বা টেক্সটে ভেরিফিকেশনের কোডও সেই নম্বরেই আসে।

GBP verification abroad — বিদেশে ভেরিফিকেশন কোন উপায়ে হবে?

সেটা Google ঠিক করে আপনার ব্যবসার ধরন, দেশ বা অঞ্চল, পাবলিক ইনফো আর খোলার সময় দেখে। ভিডিও রেকর্ডিং, ফোন বা টেক্সট, ইমেইল, লাইভ ভিডিও কল বা পোস্টকার্ড — প্রোফাইলে যেগুলো দেখায়, তার মধ্যেই বাছতে হয়। কখনও একাধিক উপায়ে ভেরিফাই করতে হয়।

আমি দেশে থাকি, দোকান দুবাইয়ে — আমি কি প্রোফাইল খুলে দিতে পারি?

প্রোফাইল খোলা আর ইনফো সাজানো দূর থেকেও করা যায়। কিন্তু ভেরিফিকেশন হয় দোকানের জায়গা থেকেই — ভিডিও হলে দোকানে দাঁড়িয়ে লাইভ রেকর্ড করতে হয়, পোস্টকার্ড হলে সেটা দোকানের ঠিকানায় আসে। তাই যিনি দোকান চালান, ভেরিফিকেশনের কাজটা তাঁকেই করতে হবে। পরে আপনাকে ম্যানেজার হিসেবে যোগ করে নিতে পারেন।

Google Maps listing USA-তে বাড়ি থেকে চালানো ব্যবসা কি তোলা যায়?

যায়, যদি আপনি কাস্টমারের কাছে গিয়ে কাজ করেন — যেমন ক্যাটারিং, টিউশন বা রিপেয়ার। তখন সার্ভিস-এরিয়া ব্যবসা হিসেবে খুলুন, বাড়ির ঠিকানা লুকিয়ে রাখুন আর কোন কোন এলাকায় কাজ করেন সেটা দিন। শুধু চিঠি নেওয়ার ঠিকানা, P.O. Box বা ভার্চুয়াল অফিস দিয়ে প্রোফাইল চলে না।

প্রোফাইলে দোকানের নাম ইংলিশ আর বাংলা দুটোতেই লিখতে পারি?

না। Google-এর নিয়মে একই নাম দুটো ভাষায় বা দুটো লিপিতে পাশাপাশি লেখা চলে না, সাইনবোর্ডে দুটো থাকলেও না। যে নামটা লোকে চেনে আর সাইনবোর্ডে বড় করে লেখা, সেটাই একবার দিন।

সর্বশেষ আপডেট:

#Google #Google Maps #দেশ-বিদেশের বাঙালি ব্যবসা #রিভিউ #লোকাল ব্যবসা

WhatsApp